অপরাধ বিষয়ে পিএইচডি, চার খুনের পর তোলেন সেলফি

অপরাধ বিষয়ে পিএইচডি, চার খুনের পর তোলেন সেলফি, যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো হত্যাকাণ্ডে আলোচিত অপরাধবিদ ব্রায়ান কোহবারগার
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে নিজেকে আবারো আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এলেন অপরাধবিদ্যায় পিএইচডি পর্যায়ের ছাত্র ব্রায়ান কোহবারগার। ঘটনার ভয়াবহতা শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না—হত্যার পর তিনি ঘটনাস্থলে ফিরে গিয়ে হাসিমুখে একটি সেলফি তোলেন, যা পরে তদন্তকারীদের হাতে এসে পড়ে।
ব্রায়ান কোহবারগার ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন পিএইচডি ছাত্র। তার গবেষণার বিষয় ছিল ক্রিমিনোলজি বা অপরাধবিদ্যা। কীভাবে অপরাধীরা চিন্তা করে, কেন তারা অপরাধ করে, এইসব বিষয় ছিল তার পড়াশোনার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—এই জ্ঞান ব্যবহার করে তিনি নিজেই এক ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত করেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে, ইউনিভার্সিটি অফ আইডাহোর চারজন ছাত্রছাত্রী—ক্যায়লি গঞ্জালভেস, মাডি মোঘান, ঝানা করনডল ও ইথান চ্যাপিন—কে গভীর রাতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্তব্ধ হয়ে যায়।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ব্রায়ান কোহবারগার আবার ঘটনাস্থলে ফিরে যান এবং নিজের মোবাইল দিয়ে সেলফি তোলেন। সে সময় নিহতদের মরদেহ তখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীদের মতে, কোহবারগার হত্যার পর যেভাবে ফেরত গিয়ে ‘পর্যবেক্ষণ’ করেছেন এবং নিজের ছবি তুলেছেন, তা একজন অপরাধবিদের ‘প্যাটার্ন অব বিহেভিয়ার’ বা অপরাধপরবর্তী আচরণ বুঝতে চাওয়ার ইচ্ছারই বিকৃত রূপ হতে পারে।
এই সেলফি তার মোবাইল থেকে পাওয়া যায়, যা তার বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে, কোহবারগার আদালতে চারটি হত্যা অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড এড়াতে এই স্বীকারোক্তি দেন। তার বিরুদ্ধে এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং পুরো সমাজ এই ঘটনায় স্তম্ভিত। একজন অপরাধবিদ্যার ছাত্র যে নিজেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে, তা অনেকের ভাবনার বাইরে ছিল।
ব্রায়ান কোহবারগারের এই ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। এটি একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে—জ্ঞান আর নৈতিকতা এক নয়। একজন মানুষ যতই অপরাধ নিয়ে পড়াশোনা করুক না কেন, যদি নৈতিকভাবে বিপথে চলে, তবে তার শিক্ষা ভয়াবহরূপ নিতে পারে।

Responses