টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব: মাহদী আমিন

নির্বাচনকে
সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও নির্বাচনি আচরণবিধির
চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের
উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনি প্রচারণা
চালালেও বাস্তবে তারাই মানুষকে—এমনকি শিশুদেরও—টাকা দিয়ে প্রলুব্ধ করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়
ও আইনবিরোধী।
মঙ্গলবার
(২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
এসব কথা বলেন তিনি।
মাহদী
আমিন বলেন, “যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও ইনসাফের কথা
বলে, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি চরম লজ্জাজনক।” তিনি উল্লেখ করেন, খোদ ওই দলীয় প্রধানের
আসন ঢাকা-১৫-তে দাড়িপাল্লার
পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে দলটির একজন শীর্ষ আইনজীবী নেতা প্রকাশ্যে টাকা বিতরণ করেছেন—যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, যে দলটি প্রতিনিয়ত
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তাহলে এর চেয়ে বড়
দ্বিচারিতা আর হতে পারে
না। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দলটির নৈতিক দেউলিয়াত্ব।
এ
সময় মাহদী আমিন নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর
আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪
উল্লেখ করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী
কিংবা তাদের পক্ষে কেউ নির্বাচনের আগে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে
বা গোপনে কোনো প্রকার অনুদান, উপঢৌকন বা অর্থ প্রদান
করতে কিংবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। তিনি বলেন, আচরণবিধিমালার বিধি-২৭ অনুযায়ী এটি
শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে নির্বাচন
কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং
অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির
এই নেতা অভিযোগ করেন, একইভাবে খুলনা-১ আসনে ওই
দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে নিজ হাতে টাকা বিলিয়েছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে
প্রকাশিত হয়েছে। তার ভাষায়, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই একটি দল দেশজুড়ে টাকা
দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি, বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর
সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাহদী
আমিন আরও বলেন, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ওই দলের সন্ত্রাসীরা
রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একইভাবে বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম
উপজেলার থালতামাঝ গ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো
হয়েছে, যাতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ
সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে
আজ সকাল পর্যন্ত নির্ধারিত নির্বাচনি প্রচারণার সময়জুড়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন জরিপ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি
অভিযোগ করেন, এই বাস্তবতা আঁচ
করেই একটি দল অপপ্রচার, সহিংসতার
ইঙ্গিত, ধর্মের অপব্যবহার এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিতে নেমেছে। তার ভাষায়, “জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশলই
তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।” সব ধরনের ষড়যন্ত্র,
অপপ্রচার ও সহিংসতা রুখে
দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

Responses