ত্রয়োদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দ্বৈত মনোভাব, ভোটে অংশগ্রহণও পর্যবেক্ষণে উঠে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেবেন না বলেও ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থার কার্যালয়ে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীলভাবে ৭০টি আসন দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে উঠে এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও দলীয় কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেও দলটি নির্বাচনকে অবৈধ ও প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছিল। তবু মাঠপর্যায়ে দলের কিছু নেতাকর্মী ভোট প্রদান করেছেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেকেই অংশ নিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায়, কখনও অন্য দলের সঙ্গে যোগ দিয়েও তারা সক্রিয় হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বিরোধিতার বিপরীতে তাদের নেতাকর্মীদের ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ দলের প্রভাবশীল ভোটব্যাংক রক্ষা এবং প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রচারণা সামগ্রীতে তথ্যবিহীন উপকরণ ব্যবহার, যানবাহন ও মশাল মিছিল, পাঁচ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার বা ব্যানার ক্ষতি।
টিআইবি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধির মোট ৫৮টি বিষয়ে প্রার্থীরা লঙ্ঘন করেছে এবং বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এসব প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে নির্বাচনকালীন পরিবেশে দলগুলোর নেতিবাচক ও অনিয়মিত ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে।

Responses