দীর্ঘ ২২ বছর পর সিলেটে তারেক রহমান, নির্বাচনি প্রচারণা শুরু; উৎসবের নগরীতে ৬ স্তরের নিরাপত্তা
দীর্ঘ ২২ বছর পর সিলেটে এসে পৌঁছেছেন বিএনপির প্রধান তারেক রহমান। বুধবার রাত ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতেই তার এই সিলেট সফর।
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি বুধবার রাতেই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
সিলেট সফরের পর পর্যায়ক্রমে তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম, নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন স্থান এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২২ বছর আগে তারেক রহমান সিলেট সফর করেছিলেন জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে, সে সময় তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতেন—এবার সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করেই সিলেট থেকে প্রচারণা শুরু হচ্ছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে গোটা সিলেট নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) গ্রহণ করেছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
পুলিশ সূত্র জানায়, নগরজুড়ে ৬ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জনসভাস্থল সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কয়েকশ সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নগরের প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে র্যাব ও পুলিশের বিশেষায়িত টিম টহল দিচ্ছে। জনসভাস্থল ও মাজার সংলগ্ন এলাকাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এরই মধ্যে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করেছেন। তারেক রহমান যে সব ভেন্যুতে যাবেন এবং যেসব পথে চলাচল করবেন, সেখানে পোশাকী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এদিকে নগরের রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা ও দরগাহ গেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সাজসাজ রব। অন্তত ২০টি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল তোরণ। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজপথ। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি জনসভা নয়, বরং বিএনপির শক্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দেওয়ার একটি বড় রাজনৈতিক মঞ্চ।

Responses