নওগাঁর মান্দা বিলবয়রা গজেশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক, মোটরসাইকেলে আগুন
উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর ও অশোভন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বিলবয়রা গয়েশিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাউনির টিন ফুটো থাকাbxয় বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে পাঠদান ব্যাহত হয়। এছাড়া দরজা-জানালার অভাবে বিদ্যালয় ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় গত সোমবার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ কুমার ও সপ্তম শ্রেণির সাজেদুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান মারধর করেন। একই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন ও আব্দুল্লাহকেও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলতেন এবং বিভিন্ন কারণে শারীরিক শাস্তি দিতেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করতেন। তাঁর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের থামানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে মান্দা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রধান শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর বিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Responses