নাটোর-৪ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরদার প্রচারণা
গণভোট কী? কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে- তা নিয়ে জোড় প্রচারণা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষকে গণভোট সম্পর্কে ধারণা দিতে চলছে এই প্রচারাভিযান। প্রচারণা চালাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় থাকা গ্রাম পুলিশেরাও। নাটোর-৪ আসনের গুরুদাসপুরের তৃণমূলে গণভোটের পক্ষে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে প্রতিদিন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের কেন্দ্রগুলো ভোট গ্রহণের উপযুক্ত করা হয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও। গণভোট কি সাধারণ মানুষকে বোঝাতে এখন চলছে জোড় প্রচারণা।
সূত্র জানিয়েছে, দুই উপজেলার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ ভোটার ১৬৭টি কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে গুরুদাসপুরের ৬৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯০ হাজার ২২৮ জন ভোটার এবং বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই আসনে জামায়াত-বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
এদিকে প্রত্যন্ত গ্রামের তৃণমূল বেশিরভাগ ভোটারেরা গণভোট সম্পর্কে জানেন না। মূলত সেসব ভোটারদের কাছেই গণভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে। গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের প্রবীণ ভোটার আকবর আলী সাংবকাদিককে বলেন, ‘যৌবনকালে তিনি জিয়াউর রহমানের আমলে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দিয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের শেষ আমলে তো ভোট-ই দিতে পারেননি। এবার আশা করে আছেন ভোট দেবেন। তবে গণভোট বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। এটিও যে সেই ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট পরে তিনি বুঝতে পেরেছেন। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের কল্যাণ হবে, এজন্য তিনি পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটও দেবেন।’
খুবজীপুর এলাকার আরেক ভোটার আলেয়া বেওয়াও গণভোট সম্পর্কে জেনেছেন সম্প্রতি। তিনি বলেন, ‘ইউএনও এসে গণভোট নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রার্থীর পাশাপাশি গণভোটও দিতে বলেছেন। তাই তারা গণভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, গুরুদাসপুর পৌর শহরের দুটি হাটবার শনি ও মঙ্গলবার। এই দুইদিন হাটে আসা লোকজনকে লিফলেট দিয়ে গণভোটে অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজারে একই কায়দায় চলছে গণভোটের প্রচারণা।
রাশিদুল ইসলাম ও সুজন দাস সহ বেশ কয়েকজন গ্রাম পুলিশ সাংবকাদিককে বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারাও গণভোটের লিফলেট বিতরণ অব্যহত রেখেছেন। যারা পড়তে পারেন না, তাদের কাছে গিয়ে গণভোটের লিফলেট পড়ে শোনাচ্ছেন তারা। তারা মূলত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এটি সরকারি নির্দেশনা। ভোটারেরা গণভোটের লিফলেট আগ্রহভরে গ্রহণ করছেন। গণভোটের প্রতিবাদ্য নিরক্ষরদের বোঝাতেও সুবিধা হচ্ছে।’
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ সাংবকাদিককে বলেন, ‘প্রত্যন্ত গ্রাম এবং হাট-বাজারে গিয়ে ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। গণভোটে অংশ নিতে ভোটারদের উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া চলমান রাখার পাশপাশি শিক্ষক-সাংবাদিক, সুধিজনদের নিয়ে এরই মধ্যে গণভোট সম্পকে সেমিনার করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি গণভোটেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য কাজ করছেন তিনি।’

Responses