বিজয় দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধার ফুলের দোকানগুলোতে শুরু হয়েছে ফুলের পুষ্পস্তবক তৈরির প্রস্তুতি

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম গাইবান্ধা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার ফুলের বাজারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানের জন্য নানা প্রকার ফুলের তোড়া, পুষ্পস্তবক ও রিং মালা তৈরির কাজে দোকানিরা এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যান্য দিনের তুলনায় ফুলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জেলার প্রধান প্রধান ফুলের দোকান এবং অস্থায়ী বাজারগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
রাত পোহালেই বিজয়ের দিন, তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মচারীদের নিয়ে দিনরাত এক করে কাজ করছেন।বিজয় দিবসের ভোরে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং অন্যান্য স্মৃতিস্তম্ভে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ভিড় করবে।
এই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির পুষ্পস্তবক (শ্রদ্ধাঞ্জলি তোড়া)। এসব পুষ্পার্ঘ্যে লাল-সবুজ থিমের প্রাধান্য থাকছে। তোড়াগুলোতে সাধারণত তাজা লাল গোলাপ, সাদা রজনীগন্ধা, উজ্জ্বল হলুদ গাঁদা, জারবেরা এবং গ্ল্যাডিওলাস ফুল ব্যবহার করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই ফুলের দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বিশেষ দিনে ফুল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা ঢাকা, যশোর ও স্থানীয় পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণ ফুল মজুত করেছেন। মানসম্মত ও আকর্ষণীয় তোড়া সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। অনেক দোকানেই এখন অগ্রিম অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।
গাইবান্ধার ফুল ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বিজয় দিবসের এই দিনে তারা বিগত বছরের চেয়েও ভালো ব্যবসা করতে পারবেন। তাদের এই কর্মব্যস্ততা কেবল ব্যবসায়িক লাভ নয়, বরং বিজয়ের চেতনাকে ফুলের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক প্রয়াস হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ফুলের দোকানগুলো যেন বিজয়ের রং ও সুগন্ধে ভরে উঠেছে।

Responses