ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইমনের জানাজা সম্পন্ন, দাফনের জন্য নাটোরে প্রেরন
মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ইমন (১৮)-এর প্রথম জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরে দাফনের জন্য তার মরদেহ জন্মস্থান নাটোরে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালের চত্বরে ইমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, তার সহপাঠী, শিক্ষকবৃন্দ ও সদর হাসপাতালের নার্স-ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এ সময় প্রিয় সহপাঠীর শেষ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সার্বিক সহযোগিতায় ইমনের ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ গোসল করানো হয় এবং কাফনের কাপড়সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাগানবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শিক্ষার্থী ইমনের মৃত্যু হয়।
ইমন নাটোর জেলার লালপুর থানার জোতদৈবকী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হতদরিদ্র ভ্যানচালক মধু আলীর ছেলে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল মিরুন্নাহার বেগম বলেন, “ইমনের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টরদের পক্ষ থেকে এবং রেডিওলজিস্ট কনসালটেন্ট ডা. তোফায়েল আহমেদের পক্ষ থেকে ইমনের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। শেষবারের মতো আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীকে বিদায় দিয়েছি এবং তার মরদেহ বাবার কাছে হস্তান্তর করেছি।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন জানান, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা হাসপাতালের ডোম ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম সুমনের মাধ্যমে ইমনের মরদেহ গোসল ও কাফনের পর ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে নাটোরে পাঠানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, শহরের অন্নদা স্কুলসংলগ্ন বাগানবাড়ি এলাকায় সৈয়দ বাহলুলুর রহমানের মালিকানাধীন একটি ভবনের চতুর্থ তলার ৪০২ নম্বর কক্ষে ভাড়া থাকতেন ইমন। শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে পাশের কক্ষে থাকা তার বন্ধু ও সহপাঠী ইসমাইল হোসেন (১৮) ইমনের কক্ষে গিয়ে তাকে বিছানার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তাকে বসানোর চেষ্টা করলে তিনি বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন। পরে দ্রুত তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

Responses