ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভয়াবহ ওষুধ সংকট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিভাগটিতে শিশু কনসালটেন্টসহ চারজন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও প্রয়োজনীয় ইনজেকশন, সেলাইন, অ্যান্টিবায়োটিক, ঠান্ডাজনিত রোগের ওষুধসহ বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ আইটেম বর্তমানে মজুদ নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক রোগীকে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, Inj. Meropenem, Fluclox, Kacin, Cotson, এবং Inf. Baby Saline, Electrodex, 10% DA, Microbore set, I/V Cannula (24), Bodicort—এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও সরঞ্জামের কোনো সাপ্লাই নেই। এমনকি নবজাতক ও শিশুদের জন্য দরকারি অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপেরও কোনো স্টক নেই। বর্তমানে শুধুমাত্র Inj. Ceftriaxone, Omeprazole, Tazid & Windel Plus সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীকে সামলানো অসম্ভব।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের নির্ধারিত বেড সংখ্যা ২৫টি হলেও ভর্তি রয়েছে ৫৭ জন। বেড সংকটের কারণে অনেক শিশু মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদিকে NICU-এর ১১টি বেডই পূর্ণ, ফলে গুরুতর অবস্থার নবজাতকদের একটুখানি জায়গা পেতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। নার্সদের ওপর চাপ চরমে পৌঁছেছে, যাদের প্রতিদিন ঘণ্টাব্যাপী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় অনেক অভিভাবককে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
অনেকে সেই সামর্থ্যও না থাকায় সন্তানের সঠিক চিকিৎসা দিতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার মতো সামর্থ্য না থাকায় তারা কার্যত অসহায়।
চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শিশু রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে রোগীর জীবনহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে। তারা বলেন, “ওষুধ নেই, সরঞ্জাম নেই — এমন অবস্থায় আমরা চাইলে সব চেষ্টা করেও রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে পারছি না।”
এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনগুলোতে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Responses