বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে গতি, সরেজমিন পরিদর্শনে ‘তরী বাংলাদেশ’, টেকসই বাস্তবায়নের প্রত্যাশা

দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদারভাবে এগিয়ে চলেছে।
গত ১৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি. আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি স্থানীয় কৃষি, পরিবেশ ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’ খাল খনন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
পরিদর্শনকালে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা খনন কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের যে অংশে উদ্বোধন করা হয়েছিল সেখানে ইতোমধ্যে পানি প্রবাহ শুরু হওয়ায় ওই অংশে আপাতত খনন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে প্রকল্পের কাজ থেমে নেই; মধ্যগঙ্গা নদীর সংযোগস্থল থেকে নতুন করে খনন শুরু করে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিকল্প পরিকল্পনা অনুসরণ করা হচ্ছে যাতে কাজের গতি অব্যাহত থাকে।
তরী বাংলাদেশ মনে করে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর অধীনে পরিচালিত এই সেচ প্রকল্পটি সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি খাল পুনঃখননেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদন, জলব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই খাল অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, “আমরা সরেজমিনে এসে খনন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি। কিছু স্থানে পানি চলে আসার কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও বিকল্পভাবে অন্য অংশে কাজ চলমান রয়েছে, যা ইতিবাচক দিক।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী যথাযথ মান বজায় রেখে পুরো কাজ সম্পন্ন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “খাল পুনঃখননের মূল লক্ষ্য শুধু মাটি অপসারণ নয়, বরং একটি কার্যকর জলপ্রবাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাই খননের গভীরতা, প্রস্থ এবং পানিপ্রবাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।”
তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভুইয়া জানান, “এই খালটি পুনঃখনন হলে এলাকার কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বর্তমানে অনেক জমি সেচের অভাবে পতিত থাকে, কিন্তু খালটি সচল হলে শুষ্ক মৌসুমেও সহজে পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। পাশাপাশি নৌ-চলাচল চালু হলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই কাজের গুণগত মানের কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে। অনেক সময় দেখা যায় খনন কাজ শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভরাট হয়ে যায়। তাই খননের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বোয়ালিয়া খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে। এতে করে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা কমে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।
সার্বিকভাবে, বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বিজয়নগর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও সেচ ব্যবস্থায় পরিণত হবে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে পারে এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।

Responses