অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যায় পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়ার রাস্তা, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

মো মনির হোসেন , ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়া এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় ও এলাকার বিভিন্ন অংশে রাস্তার কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

সরজমিনে দেখা গেছে, হালকা বৃষ্টি হলেই পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়ার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকে। শুধু বৃষ্টির পানি নয়, ড্রেনের ময়লাযুক্ত পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে। এতে করে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং নোংরা পানির মধ্য দিয়েই মানুষকে চলাচল করতে হয়। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা খুবই নাজুক। অনেক জায়গায় ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোথাও ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে পানি চলাচলের পথ। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয় নি যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। এতে করে রাস্তাঘাট কাদামাটি ও নোংরা পানিতে পরিণত হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু বর্ষা মৌসুম নয় নিত্যদিনই এই রাস্তাগুলোতে ড্রেনের পানি জমে থাকে। বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন দিনের পর দিন পানি জমে থাকে রাস্তায়। অনেক সময় বাসা-বাড়ির সামনেও পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে শিশু, বয়স্ক ও নারীদের চলাচলে চরম সমস্যা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নোংরা পানির কারণে ডায়রিয়া, ত্বকের রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়া এলাকায় প্রায় কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। অথচ এত মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা জানান, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয়রা আরও বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে যানবাহন চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। পানি জমে থাকার ফলে রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত থাকায় অনেক সময় রিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে রাতে রাস্তার পানি ও গর্ত বোঝা না যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন পূর্বে শুনেছিলাম নোয়াপাড়ার সবগুলো রাস্তা ও ড্রেনের টেন্ডার হয়েছে। আমরা এলাকার কিছু অংশে কাজ হতেও দেখিছি। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের রাস্তা ও ড্রেন এখনো মেরামত হয়নি। এতে করে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে।

নোয়াপাড়া পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মো: মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকবার পৌরসভার কাছে গিয়েছে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছি। পৌরকর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য পৌরকর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান তিনি।

এসময় এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা, ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং রাস্তার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পুরো এলাকার রাস্তাঘাট মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়ার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

Related Articles

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চরম দুর্ভোগ

টানা ভারি বর্ষণে থমকে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আজ বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেল থেকে শুরু হওয়া অতি বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি…

পুর্নজন্ম কি বৈজ্ঞানিক ভাবে সম্ভব? — একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ

মানব ইতিহাস জুড়ে মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পর কী হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বহু ধর্ম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা চেষ্টা করেছে। অতীতে জীবনের পরের ধাপে…

নিসর্গে তুমি : লিটন হোসাইন জিহাদ

রাত্রির অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের আলো ধীরে ধীরে গ্রামটাকে জাগিয়ে তুলছিল। চারপাশে একরাশ কুয়াশা, যেন প্রকৃতি নিজের শরীর জড়িয়ে রেখেছে শুভ্র চাদরে। বটগাছের পাতায় শিশিরের ঝিকিমিকি,…

রাজারহাট রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়, কাদাপানিতে একাকার পুরো প্ল্যাটফর্ম

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশন সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও মূল ভবনের চারপাশে পানি জমে থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে…

Responses