তীব্র গরমে পোশাকের ধারায় পরিবর্তন: শার্ট ইন করার অভ্যাসে বদল আনছেন ফ্যাশনপ্রেমীরা
লাইফস্টাইল ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ ও তীব্র গরমের কারণে সম্প্রতি ফ্যাশন সচেতনদের পোশাক পরিধানের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত শার্ট বা টি-শার্ট প্যান্ট কিংবা স্কার্টের ভেতর গুঁজে পরার (টাক ইন) পরিবর্তে ঢিলেঢালাভাবে ঝুলিয়ে পরার প্রবণতা এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দ্য গার্ডিয়ানের ফ্যাশন কলামিস্ট জেস কার্টনার-মর্লি এই বিষয়টিকে ‘দ্য গ্রেট আনটাক’-এর গ্রীষ্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কার্টনার-মর্লি জানান, বছরের পর বছর ধরে ফ্যাশন জগতে শার্ট টাক না করে পরার পরামর্শ দেওয়া হলেও, ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ ও তীব্র গরমই মূলত মানুষকে এই স্টাইল গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। প্রচণ্ড গরমে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে এমন শক্ত বা আঁটসাঁট পোশাকের তুলনায় ঢিলেঢালা পোশাক পরা অনেক বেশি আরামদায়ক। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ার সংস্কৃতিগুলোতে সবসময়ই শরীরের সঙ্গে কম স্পর্শ করে এমন বড় আকারের পোশাক পরিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
চলতি বছরের জুলাই মাসে প্যারিস এবং রোমে অনুষ্ঠিত ‘ওত কুত্যুর’ ফ্যাশন শোগুলোতেও এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। চরম গরমের মধ্যেও সেখানে অংশ নেওয়া অনেক ফ্যাশনপ্রেমী এবং আমন্ত্রিত অতিথি ঢিলেঢালা শার্টের সঙ্গে হালকা স্কার্ট কিংবা আলগা ট্রাউজার্স পরিধান করেছিলেন। সেখানে অনেকেই শার্টের বোতাম গুঁজে না দিয়ে বরং আলগাভাবে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, তবে কেউই তা প্যান্ট বা স্কার্টের ভেতরে গুজে পরেননি।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, শার্ট ইন করার সিদ্ধান্ত অনেকেই সচরাচর একটি স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে দেখে থাকেন। নিজের প্রতিবিম্ব দেখে শরীরের কোনো অংশ ছোট বা কৃশ দেখানোর একটি অবচেতন মানসিকতা থেকে অনেকে জামা গুজে পরেন বা বেল্ট ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত গরমে এটি মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলার পাশাপাশি কিছুটা পুরোনো ফ্যাশনের বা সেকেলে হিসেবে তুলে ধরছে। বর্তমান সময়ের তরুণ বা ‘কুল কিডস’রা পোশাক আলগাভাবে ঝুলিয়ে পড়তেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
জনপ্রিয় মডেল ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব অ্যালেক্সা চাং-ও এই পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে হার্পার্স বাজার-এর একটি পডকাস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি কোনো পোশাক পরিধানের সময় তা গুঁজে বা টাক ইন করাটা তার কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিকভাবে শার্ট ইন করার অভ্যাস থাকলেও তিনি এখন সচেতনভাবেই তা থেকে সরে এসেছেন।
ফ্যাশন জগতে আয়তনের পরিবর্তন বা কোনো নতুন সিলুয়েটের আগমন একটি স্বাভাবিক নিয়ম। অতীতে কোনো পোশাকে অতিরিক্ত ঢিলেঢালা অংশ থাকলেও শরীরের ওপরের অংশ সাধারণত আঁটসাঁট রাখা হতো। তবে বর্তমান তরঙ্গে পুরো পোশাকেই একটি ঝরঝরে ও প্রবাহমান লাইন বা ‘ফ্লুইড লাইন’ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
যাঁরা পোশাক পুরোপুরি আলগা রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাঁদের জন্য টিকটকে ‘রিভার্স ফ্রেঞ্চ’ নামের একটি বিকল্প পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে শার্টের সামনের অংশ ঢিলেঢালা রেখে পেছনের কিছু কাপড় পনিটেইল ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে কোমরবন্ধনীর ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এর ফলে জামায় খুব বেশি বাড়তি কাপড় ঝুলবে না, অথচ আলগা ভাবের আরামদায়ক অনুভূতিও বজায় থাকবে। রেকর্ড গড়া এই তীব্র গরম মানুষকে আলগা ফ্যাশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ত্বরান্বিত করেছে।

Responses