-
আকাশের ভাঁজে জমে থাকা মেঘের নীরবতায়
আমি বসে ছিলাম—সময়ের এক অদৃশ্য বারান্দায়,
যেখানে বৃষ্টি নামার আগেই
ভেতরের আগুনেরা নিভে যাওয়ার মহড়া দেয়।হঠাৎ মনে হলো—
তোমার জন্য জ্বলা সেই প্রাচীন অগ্নিগোলকটি
এখন আর পুড়ায় না,
বরং এক মৃত নক্ষত্র—
নিজের ছাই নিজেই গিলে ফেলা এক নিঃশব্দ কৃষ্ণগহ্বর।তুমি বলেছিলে—আমি উন্মাদ,
ভালোবাসার অতিরিক্ত জ্যোৎস্নায় অন্ধ এক পথিক।
আজ দেখি, সেই উন্মাদনাও
মাটির নিচে ঘুমিয়ে পড়া বীজের মতো
ধীরে ধীরে অন্য এক ঋতুর দিকে সরে যাচ্ছে।বৃষ্টি নেমে এলো—
জল নয়, যেন স্মৃতির স্বচ্ছ প্রতিলিপি,
আমার শরীর নয়, স্পর্শ করলো অনুপস্থিতির শিরা।
মনে পড়লো—
আমাদের হাত একসময় ছিল একে অপরের ঠিকানা,
ঠোঁট ছিল তৃষ্ণার বিরুদ্ধে ঘোষিত বিদ্রোহ।
এখন তারা পুরোনো মানচিত্র, পথ আছে, কিন্তু গন্তব্য নেই।জানালার পাশে সেই সুনালো ফুলগাছ—
অদ্ভুতভাবে আজও দাঁড়িয়ে আছে,
যেন সে-ই জানে ভালোবাসার গোপন ব্যাকরণ।
আমি তো বলেছিলাম—
এই পথেই বপন করবো অনন্তের বীজ,
কিন্তু সময় এসে
আমার বাক্যগুলোকে অন্য কারও কণ্ঠে স্থানান্তর করেছে কি?হয়তো তুমি এখন
একই প্রতিশ্রুতি অন্য কোনো ঋতুকে দিচ্ছো—
আর আমি,
নিজেকে উদ্ধার করার অজুহাতে
ভুলে যাওয়ার দিকে হাঁটছি।কখনো কখনো মনে হয়—
ভুলে যাওয়াটাই ছিল একমাত্র মুক্তি,
একটি দরজা, যার ওপারে বেঁচে থাকার অনুমতি মেলে।
তবু প্রশ্নটি রয়ে যায়—
আমি যদি বেঁচে উঠি ধীরে ধীরে,
তবে তুমি কি এখনো ডুবে আছো
কোনো অচেনা ভালোবাসার গভীর জলে?নাকি তুমিও
নিজের ভেতরের ভাঙাচোরা শহর থেকে পালিয়ে
নতুন এক আকাশে
নিজেকে পুনর্গঠন করছো—
আমাকে ছাড়াই?
