ভালোবাসার বিয়ে, এক বছর না যেতেই বিচ্ছেদ—তাহসান-রোজার সম্পর্কে ভাঙনের নেপথ্য গল্প
গত বছর হঠাৎ বিয়ের ঘোষণায় ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের সঙ্গে তার বিয়ের খবর সে সময় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টানা কয়েক দিন ট্রেন্ডিংয়ে ছিল তাহসানের বিয়ে। তবে বছর না ঘুরতেই সেই আলোচিত জুটির বিচ্ছেদের খবরে আবারও সরগরম বিনোদন অঙ্গন।
সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যমকে তাহসান নিজেই রোজার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরপর থেকেই ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে নানা প্রশ্ন—তুমুল প্রেমের পর বিয়ে, তারপর এত দ্রুত সম্পর্কের ইতি কেন?
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সময় ছিল তুলনামূলকভাবে কম। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীত সফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকছিলেন। সে সময় মেলবোর্ন থেকে তাহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন গান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা।
এ বিষয়ে তাহসান জানিয়েছেন, ওই সময়েরও আগে থেকেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এরপর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আর প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাকে।
অন্যদিকে, রোজা আহমেদ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করায় অনেকের ধারণা ছিল, তাদের সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাহসান ও রোজার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার জায়গায় কিছু পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান চেয়েছিলেন আগের চেয়ে আরও বেশি ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করতে। সে কারণেই বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষ্ক্রিয় করার মতো সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সংসারকেই দিতে চেয়েছিলেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অন্যদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। নতুন এই বাস্তবতাকে তিনি উপভোগ করছিলেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এই ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনযাপনের ধারা ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।
ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্যমতে, শুরুতে এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হলেও একসময় মতের অমিল প্রকট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কাউকে দোষারোপ না করে, পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন তাহসান ও রোজা।

Responses