কুড়িগ্রামে নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত শত পরিবার

জিহাদুল ইসলাম : অসময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ধনিরামপুর ও মধ্য ধনিরামপুর এলাকায় গঙ্গাধর নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পুরো মৌসুমে শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিশাল ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দূরে গঙ্গাধর নদী তীরবর্তী ধনিরামপুর গ্রামে দিন কাটছে চরম দুঃসহ অবস্থায়। জয়বর, ছালাম, বেলাল, কালাম ও আলামিনের মতো বহু পরিবার ইতোমধ্যে বারবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন— কেউ ৪ বার, কেউবা ৫ বার। কিন্তু কোথায় যাবে তারা, তার কোনো উত্তর নেই কারও কাছে।
এদিকে নদীভাঙন রোধ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। দুপুরে কচাকাটা ইউনিয়নের মধ্য ধনিরামপুর এলাকায় গঙ্গাধর নদীর তীরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। (বাংলাভিশন/ অক্টোবর ২০, ২০২৫)।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবারই ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে— অথচ সরকারি দপ্তরগুলো ব্যস্ত কাগজে-কলমে আশ্বাস দেওয়ার রাজনীতিতে।
বিএনপি মনে করে, জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষাই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের সর্বপ্রথম কর্তব্য।
আমরা দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই— ভাঙন রোধে সরকার যেন দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে কুড়িগ্রামসহ দেশের নদীভাঙনকবলিত মানুষেরা নিরাপদ আশ্রয় ও জীবনের নিশ্চয়তা ফিরে পায়।

Responses