গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন, প্রত্যাশা আর হতাশার দোলাচলে বাংলাদেশ
জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা থাকলেও, যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তরুণরা রাজপথে নেমেছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর হতাশা।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ দ্রুত গণআন্দোলনে রূপ নেয়। জাতিসংঘের হিসাবে দমন-পীড়নে প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনাবাহিনী গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আগস্টে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়লে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালান।
বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় রাজনৈতিক মাঠে শক্ত অবস্থানে বিএনপি। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিশ্লেষকদের মতে, তিনিই সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রার্থী। একই সঙ্গে পুনরুত্থান ঘটেছে জামায়াতে ইসলামীর, যদিও দলটি কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।
গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের গড়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় তরুণ আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ এটিকে আদর্শচ্যুতি হিসেবে দেখছে। অনেক আন্দোলনকারী মনে করছেন, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
সব অনিশ্চয়তার মাঝেও এই নির্বাচনকে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাজপথে বিরাজ করছে কৌতূহল আর সতর্ক আশাবাদ—এই নির্বাচন হয়তো নতুন বাংলাদেশের পথ দেখাতে পারে।

Responses