চানখারপুলের ওষুধের দোকানে প্রেমিকার চোখের জল বিক্রি হয়”
চানখারপুলের ওষুধের দোকানে প্রেমিকার চোখের জল বিক্রি হয়”
লিটন হোসাইন জিহাদ
১
চানখারপুলের গলির মোড়ে,
একটা ছোট ওষুধের দোকান,
নাম— “স্বপ্নফার্মা”
কিন্তু এখানে ঘুমের ওষুধের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়
অতীতের স্মৃতি, প্রেমিকার শেষ এসএমএস,
আর না বলা কথার স্যালাইন।
প্রেমিক দাঁড়িয়ে থাকে,
হাতে একটা ভাঁজ করা প্রেসক্রিপশন—
লেখা আছে ডাক্তারি ভাষায়:
“Patient suffers from:
Loss of Touch,
Chronic Absence,
Sudden Ghosting,
& Emotional Hemorrhage.”
ওষুধের দোকানি চশমা পরা একজন বৃদ্ধ,
যিনি হাসেন না,
শুধু বলেন—
“ভালোবাসা এখন স্টকে নেই,
তবে একটা চিঠি আছে,
ভিজে গেছে বৃষ্টিতে…
পড়বেন?”
২
চিঠির কাগজ গন্ধ নেয়,
চোখের জল শুকিয়ে গিয়ে দাগ হয়ে গেছে,
লেখা আছে—
“তুমি তো ছিলে আমার রাতের ঘুমের মতো,
কিন্তু এখন আমি ঘুমাতে পারি না,
তুমি ছাড়া।”
ওষুধের দোকানে ভিড় নেই,
তবে কষ্ট এসে বসে থাকে কাঁধে,
একটা দুঃখী কবিতা হেলাফেলায় পড়ে থাকে ডেস্কে,
নাম— “তোমাকে ভুলে যাওয়ার রেট ৩০০ টাকা”।
প্রেমিক পকেট থেকে একটি ছেঁড়া নোট বার করে,
জিজ্ঞেস করে—
“ভুলে যাওয়ার অর্ধেক ডোজ হবে?”
দোকানি মাথা নাড়ে—
“না, অর্ধেক ভালোবাসা যেমন অসম্ভব,
তেমনি অর্ধেক ভুলে যাওয়াও বিষক্রিয়া।”
৩
হঠাৎ দোকানে ঢুকে পড়ে এক নারী,
চোখে ঘুম নেই, ঠোঁটে বিষ,
বলল—
“ভালোবাসি বলেছিলো সে,
এখন নাকি শরীরটা ভালো রাখাই প্রেম।
দাও না একটা প্রেম-রোধক ইনজেকশন?”
দোকানি বলল—
“এই শহরে প্রেম রোধ নেই,
শুধু আছে সময়-রোধক ব্যথানাশক।
চলো, একটা কবিতা খাইয়ে দেই তোমায়।”
৪
চানখারপুলে সন্ধ্যার আলো কাঁপে,
একটা ল্যাম্পপোস্ট নিচে দাঁড়িয়ে
প্রেমিক খুঁজে ফেরে তার হারানো রোগের নাম—
“তুমি”
যে কোনো মেডিকেল বইতে নেই,
তবে কবিতার পাতায় আছে তার উপশম।

Responses