নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে জাপানের সংসদ ভেঙে দিলেন তাকাচি, ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। নিজের আকাশচুম্বী ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা পুঁজি করে বড় ধরনের রাজনৈতিক জুয়া খেললেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাচি। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ বিলুপ্তির ঘোষণা শুক্রবার সকালে জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার চিঠি পাঠ করেন। জাপানের সংবিধান অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষ বিলুপ্ত হওয়ার পর প্রার্থীরা মাত্র ১২ দিন নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ পাবেন। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে এই প্রচারণা শুরু হবে। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে জাপানে এত দ্রুত সংসদ ভেঙে নির্বাচনের আয়োজন আর দেখা যায়নি।
তাকাচির সাহসিকতা ও জনপ্রিয়তার ছক মাত্র গত বছরের অক্টোবরে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সানাই তাকাচি। দায়িত্ব পালনের তিন মাস না পেরোতেই তিনি আগাম নির্বাচনের এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন। বর্তমানে জাপানে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশ, যদিও তার দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কিছুটা টালমাটাল। মূলত নিজের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে সরকারের জনসমর্থন পুনরুদ্ধার এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মজবুত করাই তাকাচির প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক সমীকরণ বর্তমানে নিম্নকক্ষে তাকাচির নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং বিরোধী দল ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’র (জেআইপি) মধ্যে আসনের ব্যবধান অত্যন্ত কম। এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাকাচি তার ‘উদার অথচ শক্তিশালী’ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট বা সমর্থন চান।
চ্যালেঞ্জের মুখে বিরোধীরা সংসদ ভেঙে দেওয়ার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিরোধী দলগুলো কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। তারা অভিযোগ করছে, আসন্ন বাজেটের আলোচনা এড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তাকাচি এই সময়ের সুযোগ নিচ্ছেন। তবে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে।

Responses