ভোটের দিন মেহেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৯

ভোটের দিন মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মোট ৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে জামায়াতের ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহতরা হলেন—তবারক হোসেন (৫০), মিনাজুল ইসলাম (৩৫), সম্রাট আলী (৩২), রিপন মিয়া (৩৫), আনারুল ইসলাম (৫৪) ও আলহাজ বিশ্বাস (৫২)। তাঁদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভাটপাড়া এলাকায় জামায়াত-সমর্থিত কয়েকজন ভোটার কেন্দ্রে আসার পথে বিএনপির সমর্থক কয়েকজন যুবক তাঁদের গতিরোধ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। লাঠিসোঁটার আঘাতে জামায়াতের ছয়জন কর্মী আহত হন।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। ভাটপাড়ায় পরিকল্পিতভাবে আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রতিবেশীদের মধ্যে রেষারেষির কারণে এমনটি হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।’
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘ভাটপাড়া কেন্দ্রে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোট গ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকাতেও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন আহত হন। আহতরা হলেন শিবপুর গ্রামের সুমন, মামুন ও মাহাবুবুল। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ওই কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে ফেরার পথে সুমন ও তাঁর পরিবারের ওপর একদল যুবক হামলা চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে শিবপুর গ্রামের সাবদার আলীর ছেলে শাহাবুদ্দিনকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক শাহাবুদ্দিন বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।’

Responses