রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য

1 min read 8 words 353 views

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এর মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। গণনায় তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ–সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি খেজুরগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় সংসদের আসন আছে ছয়টি। এবারের নির্বাচনে জেলায় চারজন নারী প্রার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন রুমিন ফারহানা।

অন্য নারী প্রার্থীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আমজনতার দলের শরিফা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আশেয়া আক্তার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী নাহিদা জাহান। তাঁরা কেউই উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি এবং জামানত হারানোর মুখে পড়েছেন।

নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় রুমিন ফারহানা আলাদা করে আলোচনায় আসেন। সারা দেশে এবার ৮৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে বিজয়ী হন ৭ জন। বিজয়ীদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং শুধু স্বতন্ত্র ছিলেন শুধু রুমিন ফারহানা।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিলেন রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে তিনি দলীয় পদ হারান এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিলেন রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে তিনি দলীয় পদ হারান এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তবে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাজনৈতিকভাবে এ আসনের সঙ্গে রুমিন ফারহানার পারিবারিক ইতিহাসও আছে। তাঁর বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও পরে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে।

এ জেলায় এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নায়ার কবীর। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের শরিক জাপার জিয়াউল হক মৃধা ৩৭ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন নায়ার কবীর। তিনি পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ৪৬ ভোট।

Related Articles

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: লাঙ্গলের সমর্থন পেলেন রুমিন ফারহানা, ভোটের লড়াইয়ে নতুন মোড়

1 min read 9 words 80 views ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর…

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত, নাম নেই রুমিন ফারহানার

1 min read 16 words 362 views ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মনোনয়ন পাবেন বলে মনে…

ক্ষমতার পালাবদলে নতুন অধ্যায়: তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

1 min read 2 words 468 views মাত্র দুই বছর আগেও অনেকের কল্পনায় ছিল না যে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের ক্ষমতার ভিত্তি এত দ্রুত…

অন্ধকার ও আলোকরেখা: নারীর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের এক কঠিন বছর

1 min read 23 words 922 views ২০২৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর অবস্থান নিয়ে এক গভীর দ্বন্দ্বের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আলোচিত হয় নারীর…

ভোটের রাজনীতিতে বিজয়নগরকে ভাগ করবেন না

1 min read 5 words 149 views বাংলাদেশের গণতন্ত্রে জনগণের প্রতিনিধিত্বের মূল ভিত্তি হলো সংসদীয় আসন। নির্বাচন কমিশন জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে আসনভিত্তিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ…

Responses