হে কারবালার মাটি! তুমি নীরব কেন?

হে কারবালার মাটি!
তোমাকে প্রশ্ন করি, নির্ভয়ে, ব্যথায়, রক্তঝরা হৃদয়ে—
তুমি নীরব ছিলে কেন,
যখন হোসাইন আঃ-কে নিঃসঙ্গ মরুভূমিতে তৃষ্ণায় কাঁপতে দেখলে?
তুমি চিৎকার করোনি কেন,
যখন ৭২ জন নিষ্পাপ প্রাণ
আল্লাহর পথে শহীদ হল তোমার বুকে?
তুমি কীভাবে সহ্য করলে
আলী আসগরের ক্ষুধার কান্না,
যে কণ্ঠে মধুরতা ছিল নবীজির আযানের মতো?
তুমি কাঁপোনি, যখন শিশুর গলায় বর্শা বিদ্ধ হল
আর বাবার হাতে রক্তমাখা কলিজা কাঁপছিল হযরতের ধৈর্যের ওজনে?
হে কারবালার ধূলি!
তুমি কেন কালো হলেনা, কেন আগুন জ্বলেনা তোমার বুকে
যখন হোসাইন সিজদায় পড়ে বলছিলেন—
তৃষ্ণার্ত জিভে বলেছিলেন, “রব্বানা তাকাব্বাল!”
তুমি কি নীরব ছিলে,
যখন জান্নাতের যুবকদের সরদার
রক্তে লুটিয়ে পড়লেন নিঃশব্দ মরুতে?
তুমি কি দেখতে পাওনি
যে সেজদায় কাঁপছিল ত্রিভুবন—
তবুও তুমি নীরব!
তোমার রক্ত ঝরলো না কেন?
হে কারবালার আকাশ!
তুমি তো দেখে ছিলে সেই মুহূর্ত—
যখন আকাশের ফেরেশতারা থেমে গিয়েছিল
তারা কাঁদছিল, আহাজারি করছিল
হোসাইনের জন্য!
তবে তুমি?
তুমি কেন বজ্রপাত করোনি?
তুমি কীভাবে দেখতে পারলে—
ফাতিমার কলিজার টুকরাকে ছিন্নভিন্ন করা হচ্ছে?
হে কারবালার বাতাস!
তুমি তো বহেছিলে সেই নিশ্বাস,
যেখানে ছিল নবীজির ঘ্রাণ—
তবুও তুমি কীভাবে বয়ে গেলে নীরবভাবে,
যখন ইমাম হোসাইনের পবিত্র শীর মোবারক
দাঁড়ালো এক অভিশপ্ত বর্শার ডগায়?
তুমি কাঁপোনি?
তুমি জোরে চিৎকার করোনি—
“না! না! এই বর্শা নয়!
এই শির তো মোহাম্মদের হ্রদয়ের ধন!”
তবুও তুমি চুপ!
তোমার নীরবতা ছিল এক অভিশাপ!
হে কারবালার বালুকণা,
তুমি কি শুনতে পাওনি মা ফাতিমার ক্রন্দন?
তুমি কি অনুভব করোনি
জোহরের রোদে জ্বলতে থাকা শিশুদের বুকের হাহাকার?
তুমি কি বুঝোনি আজো প্রেমিক হৃদয়ের কান্না,
যারা কারবালার প্রতিটি মুহূর্তে জেগে থাকে?
তারা প্রতিদিন হোসাইনের সেজদায় সিজদা দেয়,
তারা প্রতিদিন তোমার দিকে তাকিয়ে কাঁদে,
আর বলে—
হে মাটি, আমরা আজো তোমাকে ভালোবাসি…
হে কারবালার মাটি!
তোমার বুকের ওপর ঘুমিয়ে আছেন তারা—
যারা জান্নাতের ফুল, বেহেশতের অমর কন্ঠস্বর।
তুমি কি জানো,
তোমার একটি কণাও যদি কেউ হাতে রাখে,
তবে তার কবর হয়ে ওঠে শান্তির ধ্যানমন্দির?
হে মাটি, হে ধূলি, হে প্রেমের প্রতীক!
তুমি তো গর্ভে ধারণ করেছো
সেই কলিজার টুকরা,
যাকে আলী বলতেন— “আমার চোখের আলো”
আর নবীজী বলতেন— “আমার হৃদয়ের রত্ন।”
তুমি কি জানো, হে মাটি!
তুমি কেবল কারবালার মাটি নও,
তুমি প্রেমিক হৃদয়ের কা’বা,
তুমি ধ্বনি— “ইয়া হোসাইন!”
কলমে: লিটন হোসাইন জিহাদ

Responses