Education ডেস্ক: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি আগের মামলা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছেন রিফর্ম ইউকে-এর সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া প্রভাবশালী নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর জেমস অরের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুলিং বা হেনস্তার অভিযোগ আংশিক প্রমাণিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কেমব্রিজের ডিভিনিটি ফ্যাকাল্টির থিওলজি বিভাগের পিএইচডি গবেষক ছিলেন। অরের আচরণের কারণে মানসিক চাপের মুখে পড়ে তিনি গত বছরের জানুয়ারিতে ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন না করেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যান। প্রথম বর্ষের পরীক্ষার পর তিনি পূর্ণাঙ্গ কোর্স শেষ না করে স্নাতকোত্তর সনদ নিয়ে বের হয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অফিস অব স্টুডেন্ট কনডাক্ট, কমপ্লেইন্টস অ্যান্ড অ্যাপিলস’ (ওএসএসসিএ) চলতি বছরের শুরুর দিকে অভিযোগটির আংশিক সত্যতা খুঁজে পায়। তদন্তে শিক্ষার্থীর ওপর মানসিক কষ্ট এবং টিউশন ফি-র ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে ৫,০০০ পাউন্ড প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডিভিনিটি ফ্যাকাল্টির বোর্ড চেয়ারম্যান রিচার্ড রেক্স ওই শিক্ষার্থীকে একটি ক্ষমাপত্র পাঠান।
ক্ষমাপত্রে স্বীকার করা হয় যে অরের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ওই শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী ছিল। ওই আদেশের পর মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ অরের দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর পরিস্থিতি মোড় নেয়।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর দাবি করেন, তিনি তদন্তের ফলাফল বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, কেমব্রিজ তাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে অরের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীটি অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য এবং অরের দাবির মধ্যে চরম অসঙ্গতি রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুশাসন প্রক্রিয়ার সঠিক নিয়ম অনুসরণ করেনি এবং তার সাথে অসত্য আচরণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘনিষ্টদের সাথে শেয়ার করা এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী জানান, এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তার আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এটি তার প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধানের প্রতি আগ্রহ এবং জীবনের প্রতি যে উৎসাহ ছিল, তা নষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিজের এবং অরের আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার জন্য তিনি এই মামলা পুনরায় চালু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কেমব্রিজে এখনও যে শিক্ষার্থীরা অরের সান্নিধ্যে আসছেন, তাদের মানসিক ও একাডেমিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আলাদা এক ঘটনার প্রেক্ষাপটে চলতি মাসের শুরুর দিকে নাইজেল ফারাজের আরেক সহযোগীর সাথে অরের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে বিদেশি রাজনৈতিক অনুদান সংক্রান্ত নির্বাচনী আইন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাদের। এ ঘটনার পর রিফর্ম ইউকের পলিসি প্রধানের দায়িত্ব থেকে অরকে বরখাস্ত করা হয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও তার আচরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
সাবেক শিক্ষার্থী কর্তৃক মামলা পুনরায় চালুর বিষয়টি নিয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় তাদের সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। তবে ব্যক্তিস্বার্থ ও গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় তারা নির্দিষ্ট কোনো কেস নিয়ে মন্তব্য করতে পারবে না।
অন্যদের কাছে অরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীর সমালোচনা থাকলেও, ওএসএসসিএ-র মুখোমুখি হওয়া অর দাবি করেছেন যে একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে তিনি আর কী আলাদা করতে পারতেন তা বুঝতে পারছেন না। এছাড়া মামলা পুনরায় চালু করার বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

