ক্লাউড গেমিং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে

ক্লাউড গেমিং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে

প্রযুক্তি ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন

ভিডিও গেমের জগতে একসময় বিপ্লব আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্লাউড গেমিং প্রযুক্তি। ধারণা করা হয়েছিল, আলাদা কোনো কনসোল বা শক্তিশালী পিসি কেনা ছাড়াই কেবল ইন্টারনেট সংযোগ এবং ব্রাউজার ব্যবহার করে যে কোনো গেম খেলা সম্ভব হবে। তবে গত এক দশকে গুগল, সোনি ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এই পরিষেবাকে সাধারণ গেমারদের কাছে জনপ্রিয় বা সাশ্রয়ী করতে নানাবিধ সংকটে পড়েছে।

সর্বপ্রথম ২০০৯ সালের আগস্টে জার্মানির গেমসকম প্রদর্শনীতে ‘গাইকাই’ নামক একটি স্টার্টআপ ল্যাপটপের ব্রাউজারে মারিও কার্ট এবং ওয়ার্ল্ড অব ওয়ারক্রাফট চালিয়ে এই ক্লাউড গেমিংয়ের ধারণা প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সোনি ৩৮০ মিলিয়ন ডলারে গাইকাই অধিগ্রহণ করে এবং তাদের প্লেস্টেশন সার্ভিসে এই প্রযুক্তি যুক্ত করে। তবে গাইকাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অনলাইভ ২০১১ সালে চালুর পর এক বছরের কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায় এবং গুগল ২০১৯ সালে শুরু করা তাদের ‘স্টাডিয়া’ সার্ভিস মাত্র তিন বছর পর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

সোনি এবং মাইক্রোসফট তাদের নিজস্ব সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস যথাক্রমে প্লেস্টেশন প্লাস এবং এক্সবক্স গেম পাস-এর মাধ্যমে স্ট্রমিং সুবিধা চালু রেখেছে। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে মাইক্রোসফট গেম স্ট্রিম করার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১৫ ঘণ্টার নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই স্বল্প সময়ে একটি সম্পূর্ণ গেম শেষ করা অসম্ভব হওয়ায় ক্লাউড গেমিংয়ে মাইক্রোসফটের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

শুরুর দিকে গেম স্ট্রিম করার প্রধান সমস্যা ছিল ইনপুট ল্যাগ বা বাটনে চাপ দেওয়ার পর গেমে তা কার্যকর হতে দেরি হওয়া। বর্তমানে এই সমস্যার সমাধান হলেও ডাটা ব্যবহারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ নেটফ্লিক্সে এক ঘণ্টা ভিডিও দেখতে ১ জিবি ডাটার প্রয়োজন হলেও এক্সবক্সে এক ঘণ্টা গেম স্ট্রিমিং করতে প্রায় ৪ জিবি ডাটা খরচ হয়। কারণ গেম খেলার সাথে সাথে কন্ট্রোলারের ইনপুট রিয়েল-টাইমে সার্ভারে পাঠানো ও প্রক্রিয়াজাত করতে হয়।

প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ভবিষ্যতে ডাটা অবকাঠামো আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক চ্যাটবটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাটা সেন্টার ও কম্পিউটিং ক্ষমতার দাম কমার বদলে উল্টো বেড়েছে। মাইক্রোসফটের মোট খরচের বড় একটি অংশ বর্তমানে এআই ও ডাটা সেন্টারে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে গেমারদের চেয়ে এআই প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে গ্রাহকদের বড় একটি অংশ এই পরিবর্তনের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হবেন না। মাইক্রোসফট তাদের ব্লগে জানিয়েছে, গেম পাস গ্রাহকদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ মাসে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ক্লাউড স্ট্রিমিং ব্যবহার করেন। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের এই প্রতিযোগিতায় অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে রয়েছে এনভিডিয়ার ‘জিওফোর্স নাও’ সার্ভিস, যা এআই অবকাঠামো ব্যবসার সফলতার কারণে এখনও এই গেমিং পরিষেবা বজায় রাখতে পারছে।

সূত্র: The Guardian – Culture

Related Articles

হাইনান এক্সপো ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: বৈশ্বিক বাণিজ্য ও উদ্ভাবনের প্রবেশদ্বার

ষষ্ঠ চীন আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্য মেলা (হাইনান এক্সপো ২০২৬) আমি মোঃ জাহিদ হাসান নিরব চীন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সানিয়া ইনস্টিটিউটের) এমবিএ  ছাত্র হওয়ার সুবাদে সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ…

বারবার অভিযানের পরও উড়াল গ্যাস বন্ধ হয়নি, বাকাইল যেন বিস্ফোরণের অপেক্ষায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাছের উপর গ্যাসের পাইপ ঝুলছে। এ কারণে গ্রামটি এখন উড়াল গ্যাসের গ্রাম হিসেবে বেশি পরিচিত।…

জুলাই বিপ্লবের সাদিম কায়েম এর যে কাহিনী সবার জানা প্রয়োজন

জুলাই বিপ্লব নিয়ে ইয়েনি সাফাককে (তুরস্কের গণমাধ্যম) একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের নেতা সাদিক কায়েম। তিনি ব্যাখ্যা করছেন, কীভাবে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে…

প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার: যুব সমাজের ক্ষতি ও প্রতিকারের পথ

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল টুল আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি এর অসচেতন…

পুর্নজন্ম কি বৈজ্ঞানিক ভাবে সম্ভব? — একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ

মানব ইতিহাস জুড়ে মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পর কী হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বহু ধর্ম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা চেষ্টা করেছে। অতীতে জীবনের পরের ধাপে…

Responses