Entertainment ডেস্ক: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
সুইডিশ লেখক রাসমুস লিন্ডগ্রেনের ‘দে ওনস্কাডে’ (দ্য আনওয়ান্টেড) উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে নতুন ডার্ক কমেডি ও থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ‘ব্যাড অ্যাপেলস’। ছবিটির পরিচালনা করেছেন জোনাতান এতজলার এবং এর সহ-চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন জেস ও’কেন। তবে গল্পের নানা অযৌক্তিকতা ও দুর্বলতার কারণে চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট কান্ট্রির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে ছবিটির মূল গল্প। এখানে মারিয়া নামের একজন কঠোর পরিশ্রমী ও আদর্শবাদী শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিরশা রোনান। ক্লাসের একজন চরম বিশৃঙ্খলাকারী ও সহিংস শিশু ড্যানির কারণে মারিয়ার শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ প্রতিনিয়ত ব্যাহত হয়। ড্যানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন এডি ওয়ালার।
গল্পে দেখা যায়, ড্যানি তার সহপাঠী পলিনকে মারাত্মকভাবে আহত করে। পলিন চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন নিয়া ব্রাউন। তবে এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন ড্যানির বাড়িতে এক বিশৃঙ্খল সফরের সময় মারিয়া দুর্ঘটনাবশত ড্যানির শ্বাসরোধ করে তাকে অচেতন করে ফেলেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে মারিয়া ছেলেটিকে গোপনে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং নিজের বেসমেন্টে বা মাটির নিচের কক্ষে বন্দি করে রাখেন।
শ্রেণিকক্ষ থেকে ড্যানির মতো সমস্যা সৃষ্টিকারী ছাত্র সরে যাওয়ার পর মারিয়ার অন্যান্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় বেশ উন্নতি করতে শুরু করে। মারিয়ার শিক্ষকতার মূল্যায়ন হিসেবে তিনি অফস্টেড (Ofsted) থেকে ইতিবাচক রিপোর্ট লাভ করেন এবং নিজেকে সফল মনে করতে থাকেন। কিন্তু একই সঙ্গে তার গোপন এই অপরাধের বোঝা তার ওপর চেপে বসে।
চলচ্চিত্রটিতে বেশ কিছু অযৌক্তিক ও বাস্তবতাবহির্ভূত দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা একটি বেসমেন্টে বলপূর্বক বন্দি রাখা এবং বন্দি শিশুর পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাস্তবে অত্যন্ত জটিল হলেও ছবিতে তা বেশ পরিচ্ছন্ন ও সহজভাবে দেখানো হয়েছে, যা প্রশ্ন তোলে। এছাড়া ড্যানিকে কীভাবে চেতনানাশক ওষুধ না দিয়ে পশু নিয়ন্ত্রক হারনেস পরিয়ে রাখা হলো, তারও কোনো স্পষ্ট উত্তর চিত্রনাট্যে নেই।
বন্দি জীবনের প্রেক্ষাপটে তৈরি থ্রিলার বা স্যাটায়ারধর্মী অন্যান্য বিখ্যাত চলচ্চিত্র যেমন ইয়ান কোমাসার ‘দ্য গুড বয়’ বা মার্কাস শ্লাইনজারের ‘মাইকেল’-এর মতো ছবিগুলোতে অপরাধীর রূপ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলেও ‘ব্যাড অ্যাপেলস’-এ মারিয়া চরিত্রটিকে সহানুভূতিশীল হিসেবে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবির অন্যতম মূল দিক ছিল একজন উদার মানসিকতার শিক্ষক মনে মনে যেসব চরম পদক্ষেপের স্বপ্ন দেখেন, মারিয়া সেটাই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, চলচ্চিত্রটিতে পর্যাপ্ত হাস্যরস বা চমক সৃষ্টির অভাব রয়েছে, যার ফলে শেষের দিকে গল্পটি বেশ অবিশ্বাস্য ও ক্লান্তিকর মনে হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ছবির প্রধান চরিত্র সিরশা রোনানের অভিনয় ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের সিনেমা হলগুলোতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

