শিক্ষা ডেস্ক: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্য এবং আবাসন ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রভাবে তারা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের মেইনটেন্যান্স লোন বা জীবনযাত্রার ভাতা মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে না বাড়ানোয় এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সেভ দ্য স্টুডেন্ট (এসটিএস)-এর তথ্য ও যোগাযোগ পরিচালক টম অলিংহাম জানান, খাদ্য ও বিদ্যুৎ বিলের মতো জরুরি খাতের উচ্চমূল্য শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এসটিএস-এর ২০২৫ সালের বাজেট জরিপ অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে মাসে গড়ে ১,১৪২ পাউন্ড খরচ হয়। কিন্তু তারা মেইনটেন্যান্স লোন হিসেবে পান মাত্র ৬৪০ পাউন্ড। ফলে গড়ে ৫০২ পাউন্ডের ঘাটতি থেকে যায়, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক শেষ করা রবার্ট মেডহার্স্ট শিক্ষার্থীদের প্রধান ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একটি পৃথক ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেন। প্রতিদিনের নির্ধারিত বাজেট ভাগ করে আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখার ফলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার প্রবণতা কমে এবং খরচের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।
শিক্ষাজীবন শুরু করার আগেই খরচের হিসাব তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গরমের ছুটির সময়টা ব্যবহার করে কোথায় বাড়তি খরচ কমানো যায় এবং কোথায় আয়ের সুযোগ রয়েছে তা আগেভাগেই নির্ধারণ করা উচিত। ইউনিভার্সিট কলেজ বির্মিংহামের ছাত্র প্রতিনিধি সোহাম চৌগালে একটি বাজেট টুল তৈরি করেছেন, যা অতিরিক্ত জটিলতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের মূল চাহিদার ভিত্তিতে সঞ্চয় ও খরচের সঠিক চিত্র তুলে ধরে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অবস্থায় তীব্র আর্থিক সংকটে পড়লে ‘হার্ডশিপ ফান্ড’ বা বিশেষ আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অলিংহাম জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের জরুরি আর্থিক সহায়তার তহবিল দ্বিগুণ বা তিনগুণ করেছে। একইসঙ্গে এটি পাওয়ার জন্য পারিবারিক আয়ের শর্তাবলিও শিথিল করা হয়েছে, যাতে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশাপাশি অন্যান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরাও সাহায্য পেতে পারেন।
কেনাকাটার ক্ষেত্রে সবসময় শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি) সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউনিডেজ বা স্টুডেন্ট বিনসের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে ও দোকানে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া সম্ভব। এছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে আগে থেকে রেস্তোরাঁর ছাড় বা অফার দেখে নিলে অপ্রয়োজনীয় অপচয় এড়ানো যায়।
বাহিরের খাবার বা টেকঅ্যাওয়ে ডেলিভারির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দ্রুত বাজেট শেষ করে দেয়। লিডস আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্লো হার্মার জানান, বাসায় একবারে বেশি পরিমাণ খাবার রেঁধে ক্লাসে নিয়ে যাওয়া অনেক সাশ্রয়ী। সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে নেওয়া উচিত, নতুবা অতিরিক্ত কেনাকাটার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনন্দ বজায় রেখে কীভাবে খরচ কমানো যায়, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধুদের সাথে সামাজিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আগে থেকেই খরচের সীমা নির্ধারণ করা এবং ক্লাবের ছাড়কৃত টিকিট ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ না নিয়ে সামান্য সচেতনতার মাধ্যমে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করেই জীবনযাত্রার এই কঠিন সময় পার করা সম্ভব।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

