বাইন্যান্সে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো হ্যাক, সন্দেহের তীরে উত্তর কোরিয়া
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স জানিয়েছে, তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, যেখানে অন্তত ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

World ডেস্ক: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স জানিয়েছে, তারা ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের (৪৭০ কোটি পাউন্ড) ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করা সম্ভব হলেও একটি বড় অংশ এখনও হ্যাকারদের দখলে রয়ে গেছে। তবে বাইন্যান্স আশ্বাস দিয়েছে, তারা গ্রাহকদের সমস্ত ক্ষতিপূরণ বহন করবে।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে বাইন্যান্স জানিয়েছে, তাদের একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক বা সিস্টেম নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মাধ্যমে হামলাকারী অননুমোদিতভাবে অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পায়। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সংস্থাগুলো বলছে, এই ঘটনাটি ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে হওয়া ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিং রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
দুটি প্রধান অ্যানালিটিক্স ফার্ম এই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং ইউনিট ‘ট্রেডার ট্রেইটর’-কে দায়ী করেছে। সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম চেক পয়েন্ট জানিয়েছে, এই ইউনিটটি শিল্পখাতে ‘লাজারাস গ্রুপ’ নামেও পরিচিত। সংস্থাটির চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার জয়ন্ত ডেভ জানান, বাইন্যান্সের আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করলে এটি ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টো চুরি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাইন্যান্স হামলার একাধিক উপাদানের সাথে উত্তর কোরিয়া-সংযুক্ত আগের ঘটনাগুলোর মিল রয়েছে। টিআরএম ল্যাবসের গ্লোবাল হেড অব পলিসি অরি রেডবোর্ড বলেছেন, এটি ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি অভূতপূর্ব মুহূর্ত। চুরি হওয়া ফান্ডের বড় অংশ উদ্ধার প্রক্রিয়া এখনও অনেক দূরে।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী পরিচালনা করে। ২০২৪ সালে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তাদের হেফাজতে ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে। আরেক অ্যানালিটিক্স ফার্ম চেই্যানালিসিস নিশ্চিত করেছে, উত্তর কোরিয়ার এই গ্রুপের হামলায় জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর আগে বলেছিল, হ্যাক হওয়া অর্থ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়, যদিও উত্তর কোরিয়া সব ধরনের হ্যাকিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
বাইন্যান্সের কো-সিইও রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ থেকে আক্রমণ শুরু হলেও এটি কোনো সাধারণ ক্লিক বা একক পদক্ষেপ ছিল না, বরং অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া ছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ালেটের প্রাইভেট কি ফাঁসের প্রমাণ মেলেনি। বাইন্যান্সের অপর সিইও ই হি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বা উইথড্রয়াল বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যান্য প্রধান প্ল্যাটফর্ম টেথার এবং সার্কেল যৌথভাবে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ জব্দ করতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সাথে যুক্ত ক্রিপ্টো কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালও এই ফান্ড জব্দে কাজ করেছে।
সাইবার হামলার খবরের পরপরই ক্রিপ্টো বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং ইথেরিয়াম ও সোলাানাসহ অন্যান্য প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও হু হু করে নেমেছে।





