ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ওলামা দলের কমিটি ঘিরে দ্বন্দ্ব
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ওলামা দলের ৫১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠনের পর সংগঠনের অভ্যন্তরে তীব্র বিরোধ ও বিভাজন দেখা দিয়েছে। কমিটির স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওলামা দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা।
সদর কমিটির সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার বলেন, “এই কমিটি একটি বাণিজ্য কমিটি। এটি জেলা ওলামা দলের চারবারের নির্বাচিত আহবায়ক মাওলানা আল আমীন সাহেবকে না জানিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী আহবায়কের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো কমিটি বৈধ হতে পারে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, যারা স্বৈরাচারের আমলে দলে ছিলেন না, আজ তারা আওয়ামী ছত্রছায়ায় থেকে পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে কমিটিতে ঢুকেছে। “দলের পুরাতন ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে নবাগত ও সুবিধাভোগীদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে, যা দুঃখজনক” — বলেন আনোয়ার।
তিনি আরও দাবি করেন, সদর ও পৌর কমিটিতে একই ব্যক্তিদের একাধিক পদে রাখাও নীতিবিরোধী। “আমি ও ইয়াসিন আরাফাত উভয়েই দুইটা কমিটির তালিকা শ্যামল ভাইয়ের কাছে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু ইয়াহইয়া মাসুদ ও ইয়াসিন আরাফাত ওনাকে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের দেওয়া কমিটির অনুমোদন নিয়ে নিয়েছেন।”
অন্যদিকে, নতুন কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সদস্য সচিব মুফতি নুরুল্লাহ আল মানসূর বলেন, “কমিটি গঠন করা হয়েছে ‘টপ ১০’ সদস্যদের মধ্যে ৯ জনের অনুমোদন নিয়ে। শুধুমাত্র আল আমীন সাহেবই বাদ গেছেন, কারণ তার সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করেও তাকে মিটিংয়ে পাওয়া যায়নি। তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়েছেন।”
কমিটির আহবায়ক মাওলানা ইয়াসিন বিরাসারী এ প্রসঙ্গে বলেন, “সভাপতির অনুমতিক্রমেই সবকিছু হয়েছে।”
জেলা কমিটির বর্তমান সেক্রেটারি ইয়াহইয়া মাসুদ জানান, “যেহেতু সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতির স্বাক্ষর ছিল, তাই কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে জেলা আহবায়ক মাওলানা আল আমীন বলেন, “আমাকে না জানিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি এ কমিটি মানি না।”
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের একাংশ বলছেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওলামা দলকে আদর্শিকভাবে সংগঠিত করার বদলে এখানে এখন ব্যক্তি স্বার্থ ও পদবাণিজ্য হানা দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

Responses