ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান স্পন্সর ইতিহাদ এয়ারওয়েজ প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা ভাবছে
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের পর প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে ক্লাবটির প্রধান স্পন্সর ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।

Sports ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
ম্যানচেস্টার সিটির শতাধিক আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বাধীন কমিশনের মূল সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে ক্লাবটির প্রধান মূল স্পন্সর ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থাটি বুধবার এক বিবৃতিতে কমিশনের দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্তকে ‘কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ দাবি করেছে, প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সরাসরি তাদের নাম উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও প্রিমিয়ার লিগের এই ঘোষণা ও কমিশনের সিদ্ধান্ত এয়ারলাইনটির জন্য ‘ক্ষতিপূরণমূলক ও ক্ষতিকর প্রভাব’ তৈরি করেছে। স্বাধীন কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটি তাদের মালিকপক্ষ আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের গোপন অর্থায়নে ‘ভুয়া’ স্পন্সরশিপ চুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের রাজস্ব বাড়িয়ে দেখিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় ক্যারিয়ার ইতিহাদ ২০০৯ সাল থেকে ম্যানচেস্টার সিটির মূল শার্ট স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে। ক্লাবটির প্রাথমিক আর্থিক রূপান্তরে ইতিহাদ ছিল অন্যতম প্রধান উৎস। ২০১১ সালে সিটি তাদের হোম গ্রাউন্ডের নামকরণের জন্য ৪শ মিলিয়ন পাউন্ডের ১০ বছর মেয়াদী ‘ইতিহাদ স্টেডিয়াম’ চুক্তি ঘোষণা করেছিল, যা ২০২১ সালে আরও উন্নত শর্তে বর্ধিত করা হয়।
বিবৃতিতে ইতিহাদ জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগ কমিশন প্রকাশিত ম্যানচেস্টার সিটির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কার্যবিবরণী ও প্রিমিয়ার লিগের দেওয়া তথ্য তারা খতিয়ে দেখেছে। কোনো অনৈতিক বা অনুচিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সাথে ইতিহাদ যুক্ত ছিল—এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত, উপসংহার বা ইঙ্গিত এয়ারলাইনটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।
ইতিহাদ আরও অভিযোগ করেছে, তাদের নাম গোপন রেখে প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও তথ্য ফাঁশ ও সিলেক্টিভ রিপোর্টিংয়ের কারণে এয়ারলাইনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানোর মন্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে ইতিহাদও এই রায়কে কেবল একটি ‘মতামত’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে তদন্ত প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই প্রিমিয়ার লিগ তাদের সাথে যোগাযোগ করেনি।
এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে ইতিহাদকে বক্তব্য উপস্থাপন, প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ বা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে করে যে সিদ্ধান্ত বের হয়ে এসেছে, তা এয়ারলাইনটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতোভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
পাবলিক যোগাযোগের ধরন ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিহাদ বলেছে, এ ধরনের যোগাযোগের পর ফলাফলের দায় প্রিমিয়ার লিগকেই নিতে হবে। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের সুদীর্ঘ এবং গৌরবময় অংশীদারিত্বের সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে ম্যানচেস্টার সিটি যেভাবে এই রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করছে, সেখানে সিটির সমর্থক ও তাদের সাথে ইতিহাদ সংহতি প্রকাশ করছে। নিজেদের ব্র্যান্ডের সুনাম ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় সম্ভাব্য সব আইনি বিকল্প ও পদক্ষেপর বিষয়ে ইতিহাদ ইতোমধ্যেই আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে।
