যৌন স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের অন্তরঙ্গতা নিয়ে পাঠকদের প্রশ্নের জবাব দিলেন বিশেষজ্ঞ অ্যালিক্স ফক্স
লাইফস্টাইল ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
যৌন সংস্কৃতি ও ওয়েলবিং বিশেষজ্ঞ অ্যালিক্স ফক্স দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে পাঠকদের মুখোমুখি হয়ে যৌন স্বাস্থ্য, অন্তরঙ্গতা এবং সম্পর্কের নানান জটিল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন। পাঠকদের সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের ভিত্তিতে তিনি সম্পর্কের নানা দিক ও সমাধান তুলে ধরেন।
ব্যস্ত জীবনের মধ্যে কীভাবে অন্তরঙ্গতার জন্য সময় বের করা যায়—এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যালিক্স ফক্স জানান, সম্পর্কের জন্য সময় নির্ধারণ বা শিডিউল করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, এর অর্থ শুধু সহবাস নয়, বরং একে অপরের সাথে খোলামেলা ও আনন্দদায়ক সময় কাটানো। এর জন্য ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়া বা ‘চোরপ্লে’, সকালে সময় বের করা অথবা সংক্ষিপ্ত রোমান্টিক ডেট করার পরামর্শ দেন তিনি।
সহবাসের সময় রহস্যময় বা অনিয়মিত ব্যথার বিষয়ে এক নারী পাঠকের প্রশ্নের জবাবে অ্যালিক্স ফক্স বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয়। ওভারি বা ওজন এর কারণ হিসেবে সবসময় দায়ী নয়। পেলভিক ফ্লোরের পেশির টান, ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস বা গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের কারণেও এটি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন একজন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে ‘দ্য ইভ অ্যাপিল’ দাতব্য সংস্থার ‘আস্ক ইভ’ হেল্পলাইনের তথ্য তুলে ধরেন।
বিষণ্ণতার ওষুধ বা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (এসএসআরআই) ব্যবহারের ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা ও চরম সুখে পৌঁছানোর সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। তিনি জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন না করে জিপির সাথে কথা বলে ডোজ বা ওষুধ নেওয়ার সময় পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সাথে চাপ কমিয়ে সহমর্মিতার সাথে সম্পর্কের মেলামেশা শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলের আকৃতির যৌন খেলনার জনপ্রিয়তার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মেটার সেন্সরশিপ নিয়ম এড়িয়ে চলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল ব্যবহার করে সচেতনতা মূলক কনটেন্ট তৈরি করা হতো, যা পরবর্তীতে পণ্য ডিজাইনে প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, পুরুষদের জন্য যৌন খেলনার ব্যবহারের ওপর থাকা সামাজিক ট্যাবুর সমালোচনা করে অ্যালিক্স ফক্স জানান, এগুলো কেবল আনন্দের জন্য নয়, বরং সহনশীলতা বাড়াতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক চাহিদায় অত্যন্ত কার্যকর।
এইচআইভি ও এডস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে অ্যালিক্স ফক্স জানান, আধুনিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) গ্রহণের মাধ্যমে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। রক্তে ভাইরাসের মাত্রা পরীক্ষার বাইরে চলে গেলে অর্থাৎ ‘আনডিটেক্টেবল’ হলে তা আর অন্য শরীরে ছড়ায় না, যা ‘ইউ=ইউ’ (Undetectable equals Untransmissible) নামে পরিচিত। পার্টনার ১ ও পার্টনার ২ গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে সুরক্ষিত বা অসংরক্ষিত কোনোভাবেই সংক্রমণ ঘটে না।

Responses