সাইকেল চালানোর এক মুহূর্তেই ভালোবাসার গভীরতা উপলব্ধি: অ্যানা ও জর্জির প্রেমের অনন্য গল্প
২০০৪ সালে লন্ডনের একটি কিক-বক্সিং ক্লাবে অ্যানা মেলোসের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জর্জির। সেখান থেকেই শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয় তাদের সম্পর্ক।

Lifestyle ডেস্ক: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
২০০৪ সালে লন্ডনের একটি কিক-বক্সিং ক্লাবে অ্যানা মেলোসের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জর্জির। সেখানে শিক্ষানবিস ক্লাসে দুজনে একসঙ্গে অনুশীলন করতেন। অ্যানা প্রথম দেখাতেই জর্জির উচ্চতা, মার্জিত চেহারা ও আকর্ষণীয় রূপ লক্ষ্য করেছিলেন। তবে সেই সময়ে তাদের মধ্যে খুব বেশি কথা হয়নি।
একই বছরের ক্রিসমাস পার্টিতে তাদের মধ্যে প্রথম দীর্ঘ কথোপকথন হয়। দুজনই ল্যাটিন আমেরিকায় ভ্রমণ ও কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং ঘোড়ার প্রতি নিজেদের পছন্দের কথা জানান। জর্জি ইকুয়েডরে পর্যটকদের জন্য একটি রাইডিং সংস্থায় সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন। এরপর তারা কাছের একটি ক্লাবে যান এবং রাত দুইটার দিকে এক অল-নাইট ক্যাফেতে বসে ভোর পর্যন্ত গল্প করেন।
তাদের সম্পর্কের তৃতীয় ডেটের দিন অ্যানার বাসায় চুরি হয়। বাসা থেকে ফোন পেয়ে অ্যানাকে তড়িঘড়ি ফিরতে হয় এবং পুলিশে খবর দিতে হয়। খবর পেয়ে জর্জি অ্যানার বাসায় চলে আসেন। বহু সময় পর পুলিশ এলে পুলিশ সদস্য জর্জির পরিচয় জানতে চান। সেই সময় তৃতীয় ডেটে থাকা অবস্থায় তারা কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান এবং জর্জিকে কেবল ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে জর্জি সেদিন রাতে অ্যানার বাসায় থেকে যান এবং তাদের সম্পর্ক দ্রুত এগোতে থাকে।
এক বসন্তের সকালে তারা দুজনে দুটি ভিন্ন ধরনের সাইকেল নিয়ে পার্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। অ্যানার সামনে থাকার সময় পেছনে তাকিয়ে তিনি দেখেন জর্জি স্পিড বাম্পের ওপর দিয়ে একটি ‘বানি হপ’ জাম্প দিচ্ছেন। অ্যানা লক্ষ্য করেন ধূসর রঙের ক্যানভাস জ্যাকেট পরা জর্জির চোখমুখে এক ধরনের নিখাদ আনন্দ ও আবেগ ফুটে উঠেছে। অ্যানার চোখে ধরা পড়ার পর জর্জির কিছুটা লজ্জা পাওয়া এবং তার এই প্রাণোচ্ছ্বলতাই অ্যানাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
লন্ডনে দুই বছর একসঙ্গে থাকার পর তারা মেলবোর্নে চলে যান। সেখানে জর্জি বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবে যুক্ত হলেও তার নিজস্ব কাজের জায়গায় সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ফলে কাজের প্রয়োজনে জর্জি যুক্তরাজ্যে ফিরে যান এবং তাদের মধ্যে দূরত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়।
২০০৯ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে জর্জির স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। খবর পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে অ্যানা তার চাকরি ছেড়ে দিয়ে জর্জির পাশে থাকার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। জর্জি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে দুজনে আবার অস্ট্রেলিয়া ফিরে গিয়ে কাজ শুরু করেন। তারা কেইর্নস থেকে কেপ ইয়র্ক পর্যন্ত সাইকেল চালনাসহ নানা জায়গায় ভ্রমণ ও ক্যাম্পিং করেন।
কয়েক বছর পর জর্জির ক্যান্সার পুনরায় ধরা পড়ে এবং তা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালের শেষের দিকে চিকিৎসকরা জানান যে জর্জির আয়ু হয়তো আর ছয় মাস বাকি রয়েছে। তখন তারা যুক্তরাজ্যের পারিবারিক বাসস্থানের কাছে ফিরে যান। কোভিড লকডাউনের সময়ে তারা একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ পান।
পরবর্তীতে জর্জির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে হাসপাতালে স্ক্যানের জন্য নেওয়া হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পরিবারের উপস্থিতিতে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ৩২ বছর বয়সী জর্জি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগেও তিনি সাইকেল চালিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। অ্যানা তাদের কাটানো সময়ের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং জানান জর্জির অদম্য শক্তি তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
