স্কুলে শতভাগ উপস্থিতির কড়া নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ শিক্ষকরাই: নতুন গবেষণা

স্কুলে শতভাগ উপস্থিতির কড়া নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ শিক্ষকরাই: নতুন গবেষণা

শিক্ষা ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কড়া নীতি ও জরিমানা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকরাই। অনেক শিক্ষকের মতে, পাঠদানের পুরো সময়ে উপস্থিত থাকার চেয়ে মাঝে মাঝে অবকাশ যাপন বা ছুটির গুরুত্ব কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে। তরুণদের নিয়ে কর্মরত সামাজিক সংস্থা ‘ইম্পেটাস’ এবং নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাবলিক ফার্স্ট’-এর যৌথ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

‘এ ক্রাইসিস অব ডিজেনগেজমেন্ট’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শিক্ষার্থী অন্তত ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এই দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতির সংকট মোকাবিলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও অনেক শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী জরিমানা আরোপের পদ্ধতি নিয়ে চরম অসন্তোষ এবং সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গবেষণাটির অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের নিম্ন আয়ের এলাকার এবং যেখানকার ২৫ শতাংশের বেশি শিশু বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পায়—এমন স্কুলের ৬২ জন স্টাফের মতামত নেওয়া হয়। তিন বছর ধরে চলা এই গবেষণায় শিক্ষকরা জানান, তাদের নিজস্ব সন্তানদের ক্ষেত্রেও সম্ভব হলে তারা স্কুল চলাকালেই ছুটির দিনে ভ্রমণে নিয়ে যেতেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই যদি একমাত্র ছুটির সুযোগ হয়, তবে জানুয়ারির এক সপ্তাহের ক্লাস মিস করার চেয়েও সেই ছুটির গুরুত্ব অনেক বেশি হতে পারে।

শিক্ষকরা আরও জানান, উপস্থিতি নিশ্চিত করার কাজটিকে স্কুলগুলোতে এখন অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও বিরতিহীন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, দীর্ঘমেয়াদে পড়ালেখা ও স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেয়ে হঠাৎ দু-একদিন ছুটি নেওয়া বা অনুপস্থিত থাকা কম চিন্তার বিষয়। জরিমানা আদায়ের কারণে অভিভাবক ও স্কুলের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ওই পরিবারকে মূল স্রোতে ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে অবৈধভাবে অনুপস্থিতির কারণে অভিভাবকদের প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৮২৫টি জরিমানা নোটিশ দেওয়া হয়, যা কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মহামারীর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সম্পর্কিত মানসিকতায় এক বড় পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক অভিভাবক এখন মনে করেন না যে শিশুদের সবসময় স্কুলে যাওয়া জরুরি।

এদিকে চিলড্রেনস কমিশনার র‌্যাচেল ডি সুজা এক সতর্কবার্তায় জানান, বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যাদের তথ্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে সঠিকভাবে আসছে না। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী প্রায়৪২ হাজার শিক্ষার্থী অর্ধেকেরও কম সময় ক্লাসে অংশ নেয়, যা প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।

শিক্ষক এবং স্কুল পরিচালকরা আরও জোর দিয়ে বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার অভাব, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সামাজিক কর্মীদের অপর্যাপ্ততা স্কুল পরিচালনাকারীদের কাজের পরিধিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইম্পেটাসের প্রধান নির্বাহী সুসানাহ হার্ডিম্যান উল্লেখ করেছেন, শিক্ষকরা একা এই অনুপস্থিতির সংকট সমাধান করতে পারবেন না, কারণ এই সংকটটি স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরের নানা সামাজিক চাপের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সূত্র: The Guardian – Education

Related Articles

পুর্নজন্ম কি বৈজ্ঞানিক ভাবে সম্ভব? — একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ

মানব ইতিহাস জুড়ে মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পর কী হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বহু ধর্ম, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা চেষ্টা করেছে। অতীতে জীবনের পরের ধাপে…

হাইনান এক্সপো ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: বৈশ্বিক বাণিজ্য ও উদ্ভাবনের প্রবেশদ্বার

ষষ্ঠ চীন আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্য মেলা (হাইনান এক্সপো ২০২৬) আমি মোঃ জাহিদ হাসান নিরব চীন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সানিয়া ইনস্টিটিউটের) এমবিএ  ছাত্র হওয়ার সুবাদে সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ…

সরাইলের স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের অভিযোগ: চিকিৎসক সংকট, দুই বছর ধরে অচল জেনারেটর, ওষুধ বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন (১ম পর্ব)

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়শ…

গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতায় শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে: গবেষণা

মায়ের রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া থাকলে নবজাতকের মস্তিষ্কের আকার ছোট হতে পারে এবং পরবর্তীতে তা শিশুর শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

ওয়েব ৩.০ : বাংলাদেশের অনলাইন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন দিগন্ত

লিটন হোসাইন জিহাদ: ইন্টারনেটে এক সময় মানুষ পড়ার জন্য তথ্য খুজতো। পরে সবাই লেখা ও মত প্রকাশের সুযোগ পায়, ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরি…

Responses