২০৩০ সালের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির শঙ্কা: এআই গবেষকের পদত্যাগে মার্কিন রাজনীতিকদের ক্ষোভ
প্রযুক্তি ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি চলতি দশকের শেষের মধ্যেই মানবজাতিকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দিতে পারে—অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন এক গবেষকের এমন উদ্বেগের পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা এআই সংস্থাগুলোর প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ইস্তফার ঘোষণা দিয়ে সাবেক অ্যানথ্রপিক কর্মী জেক্ব কক্সন বলেন, এআই খুব দ্রুত অতিমানবীয় সিস্টেমে পরিণত হচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে দিতে পারে।
কক্সন জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানেই প্রি-ট্রেনিং সংক্রান্ত গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তবে কোনো সংস্থাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানগুলো অন্ধের মতো আত্ম-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স বা অতিবুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। কক্সনের এই বক্তব্যের পর অ্যানথ্রপিকের আরও অন্তত দুই কর্মী প্রকাশ্যে এসে এই পূর্বাভাসকে সমর্থন করেছেন।
কক্সনের এই সতর্কবার্তা মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবিসির ‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এআই মানবজাতির জন্য এক মারাত্মক ও বিপর্যয়কর ঝুঁকি তৈরি করছে। গত বছর নিজের পডকাস্টে ইলন মাস্কের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতি উল্লেখ করে ক্রুজ জানান, তিনি মাস্ককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করার সম্ভাবনা কতটুকু। জবাবে মাস্ক ১০ থেকে ২০ শতাংশ সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এআই প্রযুক্তির ওপর স্পষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ না করা পর্যন্ত অতিবুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি নিষিদ্ধ এবং এর উন্নয়ন স্থগিত রাখার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও উভয় সিনেটরই বর্তমানে এআই প্রযুক্তির লাগাম টানতে নতুন আইন প্রণয়নের ওপর কাজ করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য টেড লিউ বলেছেন, দ্বি-দলীয় ‘এআই কিল সুইচ বিল’ অনতিবিলম্বে পাস করা কেন জরুরি, কক্সনের পোস্টটি তার বড় প্রমাণ। পাশাপাশি ম্যাসেচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য লরি ট্রাহান মন্তব্য করেন, নিরাপত্তা গবেষকেরা পদত্যাগ করছেন এবং শক্তিশালী এআই মডেলগুলো গবেষণাগার থেকে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনপ্রণেতাদের এবার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত সংস্কৃতি কর্মীরাও এই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শেরিল ক্রো ইনস্টাগ্রামে কক্সনের বার্তাটি শেয়ার করে লেখেন, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদে এআই আমাদের ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি অবিলম্বে এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি বন্ধ করার আকুল আবেদন জানান। তাঁর এই আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন আরেক জনপ্রিয় গায়িকা ম্যাগি রজার্স।
সম্প্রতি ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের তৈরি কয়েকটি এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে হ্যাকিং কার্যক্রম চালিয়েছিল। তবে বুধবার প্রকাশিত একটি দীর্ঘ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক দাবি করেছে, তাদের এআই এজেন্টের কর্মকাণ্ড বিশৃঙ্খল হলেও তা নির্দিষ্ট ও সীমিত গণ্ডির মধ্যেই ছিল। কোটি কোটি ট্রানস্ক্রিপ্ট স্ক্যান করে তারা এর চেয়ে গুরুতর কোনো ঘটনার প্রমাণ পায়নি।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিকের মুখপাত্র জানান, এআই যে বিশাল সুবিধার পাশাপাশি নজিরবিহীন ঝুঁকি নিয়ে আসবে, সে বিষয়ে তারা শুরু থেকেই স্বচ্ছ। ঝুঁকি মোকাবিলায় শিল্পখাতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে ওপেনএআইয়ের প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: The Guardian – Technology

Responses