বিতর্ক সরিয়ে ইসরায়েলকে হারিয়ে নেশন্স লিগে আয়ারল্যান্ডের জয়
গাজা ইস্যুতে আয়ারল্যান্ডে বিতর্ক ও মানসিক টানাপোড়েনের পর হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইসরায়েলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আইরিশরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করে হেইমির হালগ্রিমসনের দল।

Sports ডেস্ক: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
ফুটবল ও রাজনীতি আধুনিক বিশ্বে একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করা নিয়ে চলতি সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে রাজনৈতিক ও মানসিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছিল। তবে সব সংশয় ও বিতর্ক দূর করে হাঙ্গেরির দেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত উয়েফা নেশন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইসরায়েলকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে জয়ের ভিত্তি স্থাপন করে আইরিশরা।
ম্যাচটি বয়কট করা হবে কি না এবং খেললেও আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা খেলায় মনোযোগ দিতে পারবেন কি না—শনিবার রাত পর্যন্ত সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ময়দানে নেমে দলের খেলোয়াড়রা তাদের পেশাদারিত্ব ও মানসিক শক্তির পরিচয় দেন। পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলে আয়ারল্যান্ডের ফরোয়ার্ডরা।
ম্যাচ শেষে আইরিশ কোচ হেইমির হালগ্রিমসন বলেন, “আমার কোচিং ক্যারিয়ারের এটি সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কয়েকটা দিন ছিল। তবে এটি আমাকে নিয়ে নয়, এটি খেলোয়াড়দের নিয়ে। তারা মাঠে কতটা গর্ব ও মর্যাদার সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছে, তা আজ দেখিয়ে দিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের জন্য খেলা তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রমাণ করেছে তারা। আশা করি তারা আইরিশ জনগণের সমর্থন পাবে।”
করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ের মতো অনেকটা দর্শকশূন্য গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় এই ম্যাচটি। দেব্রেসেনের মাঠের পরিবেশ ছিল অনেকটাই নিস্তব্ধ। হোম টিম হিসেবে ইসরায়েলকে প্রায় ১৫০ জন সমর্থক আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড সমর্থকদের জন্য টিকিট বরাদ্দের অনুরোধ না করলেও গ্যালারির একটি সিঁড়িতে জনা বারো আইরিশ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাচ শুরুর আগে রাজনৈতিক বার্তার প্রতীকী প্রকাশ দেখা যায়। জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় আয়ারল্যান্ডের কোচিং স্টাফের সদস্যরা মাঠের বিপরীত দিকে মুখ করে দাঁড়ান। অন্যদিকে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের সময় কালো আর্মব্যান্ড পরা আইরিশ ফুটবলাররা মাটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে কোনো সৌজন্যমূলক হ্যান্ডশেক বা স্মারক বিনিময় হয়নি।
শনিবার দল নির্বাচনের সময় গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু নিজেকে ম্যাচ থেকে সরিয়ে নিলে দলের ভেতর চরম আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে মূল স্কোয়াডে পাঁচটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ হালগ্রিমসন। তিনি তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ডিফেন্ডার জিমি ডানকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ফিন আজাজকে বেঞ্চে রাখা হয়। আজাজের মায়ের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব রয়েছে এবং ম্যাচ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কৌশলগত কারণেই তাকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি বলে জানান কোচ।
মাঠের লড়াইয়ে নামার পর প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে আয়ারল্যান্ড। ১৪তম মিনিটে জেমস আবানকোয়ার সহায়তায় প্রথম গোলটি করেন ট্রয় পারট। এর দুই মিনিট পরই ড্যানিয়েল পেরেৎসকে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাডাম ইদাহ। ২৫তম মিনিটে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন জ্যাক মোয়লান। গোল করার পর মোয়লান কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে গিয়ে নিজের কালো আর্মব্যান্ডটি খুলে তাতে চুমু খান।
দ্বিতীয় অর্ধে ইসরায়েল ম্যাচে ফেরার কিছুটা চেষ্টা করেছিল। বদলি খেলোয়াড় দর পেরেৎসের একটি চমৎকার শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন আইরিশ গোলরক্ষক কুইভিন কেলেহার। খেলার শেষ দিকে ম্যাচটি কিছু হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। ম্যাচ শেষে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কোচ র্যান বেন-শিমোনকে পদত্যাগ করবেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘না’ উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমরা চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারিনি। মানসিকভাবে ও কৌশলগতভাবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের আরেকটি ম্যাচ আছে এবং সেখানে শক্তি ফিরে পেতে হবে।”
