যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনা গোয়েন্দা তৎপরতার সতর্কবার্তা এমআইফাইভের
ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনা প্রভাব ও গবেষণাপত্র চুরির আশঙ্কায় নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ।

Education ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থায়ন ও গবেষণায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ (MI5)। চিনের একটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রিটিশ গবেষকদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য ও প্রযুক্তি চুরির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সংস্থাটি। এর ফলে আর্থিক সঙ্কটে থাকা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চীনের একাডেমিক সহযোগিতার সম্পর্কে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমআইফাইভ দেশটির গবেষক ও একাডেমিকদের ‘চায়না একাডেমি অফ জেনারেল টেকনোলজি’ (CAGT) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রিটিশ নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিএজিটি মূলত ‘চায়না জেনারেল টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ নামেও পরিচিত। সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কর্মরত ব্রিটিশ গবেষকদের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে চীনের মূল গোয়েন্দা সংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অফ স্টেট সিকিউরিটি’র (MSS) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।
এমআইফাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০ জন যুক্তরাজ্য-সংলগ্ন গবেষক ও একাডেমিক এমএসএস দ্বারা অর্থায়িত এই প্রকল্পে কাজ করেছেন। গবেষকদের অজান্তেই অথবা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের তথ্য সংগ্রহ করা চীনের গোয়েন্দা কৌশলের একটি অংশ। এর আগে ২০২৩ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করা যুক্তরাজ্যের আইনে মারাত্মক অপরাধ।
যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরেই চীনের অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে। দেশটির অ-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চীনা শিক্ষার্থীরাই বৃহত্তম গোষ্ঠী, যা প্রতি বছর ব্রিটিশ শিক্ষায় প্রায় ৬০ কোটি পাউন্ড অর্থ জোগায়। এছাড়া, সম্প্রতি চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২১-এর বেশি নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে, যার পঞ্চমংশের বেশি অংশীদারই যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এমন পরিস্থিতিতে এমআইফাইভের সতর্কতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রযুক্তি বা গবেষণাগুলোতে চিনের সাথে সহযোগিতা করা যাবে এবং কোনগুলোতে করা যাবে না—তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো চার্লস পার্টন এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের মিয়া নাউয়েন্সের মতে, শুধু নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম ঘোষণা করে বা সাধারণ সতর্কতা জারি করে এই ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মূলত তাদের কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাই কোন ক্ষেত্রগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করে গবেষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা জরুরি।
