জাজিরাতুল আরব থেকে সৌদি আরব: ইতিহাস, নজদ, ইয়েমেন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত দাবির বাস্তবতা ↗
PothikTV
September 17, 2026
daily sokaler somay, bangladesher khabor, sobuj bangla, songbad
BSS, LLB, post graduate journalism
Reputation Building
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
PothikTV
September 1, 2026
PothikTV
June 8, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
May 23, 2026
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৪ ঘন্টায় গ্যাস না পেয়ে কি পরিমান মানুষ ক্ষুদার্থ ছিল
পৃথিবীর মতো আর একটা পৃথিবীর সন্ধ্যান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তর সুহিলপুর আনসার হাটিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের অপরাধে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৫ জন ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বমোট ১,০৫,০০০ (এক লক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে বিজিডিসিএল-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিক্রয় কার্যালয় ও জনসংযোগ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাসহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন
আরব উপদ্বীপের ইতিহাস শুধু একটি রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাস, মক্কা-মদিনার মর্যাদা, ইয়েমেন ও নজদের রাজনৈতিক-সামাজিক ইতিহাস, উসমানি সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ কূটনীতি এবং আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থা। সৌদি আরবের বর্তমান রাষ্ট্র কীভাবে গড়ে উঠল, নজদ ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাবের আন্দোলনের ভূমিকা কী ছিল, ব্রিটিশদের সঙ্গে আল-সৌদদের সম্পর্ক কতটা ছিল, ইয়েমেন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ কী বলেছেন এবং সৌদি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধর্মীয়ভাবে কী বলা যায়—এসব বিষয়…
আরব উপদ্বীপের ইতিহাস শুধু একটি রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাস, মক্কা-মদিনার মর্যাদা, ইয়েমেন ও নজদের রাজনৈতিক-সামাজিক ইতিহাস, উসমানি সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ কূটনীতি এবং আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থা।
সৌদি আরবের বর্তমান রাষ্ট্র কীভাবে গড়ে উঠল, নজদ ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাবের আন্দোলনের ভূমিকা কী ছিল, ব্রিটিশদের সঙ্গে আল-সৌদদের সম্পর্ক কতটা ছিল, ইয়েমেন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ কী বলেছেন এবং সৌদি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধর্মীয়ভাবে কী বলা যায়—এসব বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
১. ‘জাজিরাতুল আরব’ ও ‘সৌদি আরব’—দুটি একই ধরনের নাম নয়
‘জাজিরাতুল আরব’ বা আরব উপদ্বীপ একটি ঐতিহাসিক-ভৌগোলিক নাম। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব উপদ্বীপকে বোঝাতে বিভিন্ন আরবি পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে ‘সৌদি আরব’ একটি আধুনিক রাষ্ট্রের নাম। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আবদুলআজিজ ইবন আবদুর রহমান আল-সৌদের অধীনে বিভিন্ন অঞ্চল একত্রিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া’ বা ‘সৌদি আরব রাজ্য’ নাম গ্রহণ করা হয়। সৌদি সরকারের নিজস্ব ইতিহাসেও এই তারিখটিই আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দেওয়া জাজিরাতুল আরব নাম পরিবর্তন করে আল-সৌদরা সৌদি আরব রেখেছে’—এ কথাটি ঐতিহাসিকভাবে সরলীকৃত। ‘জাজিরাতুল আরব’ একটি ভৌগোলিক পরিভাষা; ১৯৩২ সালে ‘সৌদি আরব’ নামে যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটি সেই বৃহত্তর উপদ্বীপের একটি রাষ্ট্র।
২. প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের সূচনা: ১৭২৭
সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম পর্যায় শুরু হয় দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে। সৌদি সরকারি ইতিহাস অনুযায়ী, ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ১৭২৭ সালে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং দিরিয়াহকে রাজধানী করেন। এই রাষ্ট্র ১৮১৮ সালে উসমানি-সমর্থিত মিশরীয় বাহিনীর অভিযানে পতিত হয়।
অর্থাৎ ১৭২৭ সালকে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠার সাল বলা ঠিক নয়। এটি ছিল **প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সাল**। আধুনিক ‘কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩২ সালে।
৩. মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ও আল-সৌদদের রাজনৈতিক জোট
১৮ শতকে নজদ অঞ্চলে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের উত্থান ঘটে। তাঁর আন্দোলন তাওহিদ, শিরক ও বিদআতের বিরোধিতা এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের অনুশীলনে প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেয়।
১৭৪৪ সালের দিকে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ও মুহাম্মদ বিন সৌদের মধ্যে রাজনৈতিক-ধর্মীয় জোট গড়ে ওঠে। এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তির জন্ম হয়। ব্রিটানিকা এই আন্দোলনকে ১৮ শতকের নজদে প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে ১৭৪৪ সালে এটি সৌদি পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হয়।
তবে ‘ওহাবি মতবাদ মানেই ইসলাম বিকৃত করা’—এটি একটি ধর্মতাত্ত্বিক মূল্যায়ন; ইতিহাসের নিরপেক্ষ বর্ণনা নয়। একইভাবে ‘ওহাবি মতবাদই একমাত্র প্রকৃত ইসলাম’—এ দাবিও সর্বসম্মত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতভেদ রয়েছে।
৪. প্রথম সৌদি রাষ্ট্র কীভাবে বিস্তৃত হয়েছিল?
আল-সৌদ ও ওয়াহহাবি আন্দোলনের রাজনৈতিক-ধর্মীয় জোটের পর নজদের বিস্তীর্ণ অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৮ শতকের শেষভাগে তাদের প্রভাব নজদের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং হিজাজের মক্কা ও মদিনাও তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৮১৮ সালে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের পতন ঘটে।
এরপর দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পর্যায় আসে। সেটিও শেষ পর্যন্ত পতিত হয়। পরবর্তীতে আবদুলআজিজ ইবন সৌদ ১৯০২ সালে রিয়াদ পুনর্দখলের মাধ্যমে তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯০২ সালের রিয়াদ পুনর্দখল আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল।
৫. মক্কা-মদিনা কীভাবে আল-সৌদদের নিয়ন্ত্রণে আসে? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংশোধন প্রয়োজন।
১৯২৪–২৫ সালে আবদুলআজিজ ইবন সৌদের বাহিনী হিজাজে অভিযান চালায়। মক্কা, মদিনা ও পরে জেদ্দা সৌদি নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯২৬ সালে আবদুলআজিজ হিজাজের রাজা হিসেবে স্বীকৃত হন এবং ১৯২৭ সালে নজদও তাঁর রাজ্যের অংশ হিসেবে রাজ্য মর্যাদা পায়। পরে ১৯৩২ সালে পুরো রাষ্ট্রের নাম হয় ‘Kingdom of Saudi Arabia’।
তবে ‘ব্রিটিশরা সরাসরি সৌদিদের দিয়ে মক্কা-মদিনা দখল করিয়েছিল’—এই বক্তব্যের পক্ষে সরল ও শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাস্তবতা আরও জটিল। ব্রিটিশদের সঙ্গে ইবন সৌদের চুক্তি ও সম্পর্ক ছিল। ১৯১৫ সালের দারিন চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন নজদে ইবন সৌদের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয় এবং অর্থ ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা করেছিল।
কিন্তু হিজাজ দখলের সময় ব্রিটিশরা শরিফ হুসাইনের পক্ষ নিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হুসাইন ব্রিটিশ সহায়তা চাইলেও ব্রিটিশরা ধর্মীয় বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
অতএব বলা যায়—**আল-সৌদদের সঙ্গে ব্রিটিশদের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল; কিন্তু ‘ব্রিটিশরা মক্কা-মদিনা দখল করিয়ে দিয়েছে’—এটি অতিরঞ্জিত সরলীকরণ।
৬. ইয়েমেনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বক্তব্য ইয়েমেন সম্পর্কে ইসলামী সূত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাদিস রয়েছে।
সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইয়েমেনবাসীদের কোমল হৃদয় ও ঈমানের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন এবং বলেছেন:
“ঈমান ইয়েমেনি এবং প্রজ্ঞা ইয়েমেনি।” সহিহ বুখারিতেও ইয়েমেনবাসীদের কোমল হৃদয় এবং ধর্মীয় বোঝাপড়া ও প্রজ্ঞার প্রশংসা এসেছে।
অন্য একটি সহিহ বুখারি হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন। এসব হাদিস থেকে ইয়েমেনের একটি বিশেষ ধর্মীয় মর্যাদা বোঝা যায়। কিন্তু এখান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে **আজকের ইয়েমেনের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামরিক সংগঠনই রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিশ্রুত সেই ‘প্রকৃত ইসলাম’-এর একমাত্র প্রতিনিধি।**
৭. ‘ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায়’—দাবিটির বাস্তবতা এই বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সত্যের কাছাকাছি হলেও ভাষাটি সংশোধন করা দরকার।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৭০–৮০ শতাংশ মানুষ হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বসবাস করে—কিন্তু হুথিরা দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ জনসংখ্যা ও ভূখণ্ডের হিসাব এক নয়। এর কারণ হলো ইয়েমেনের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে, আর পূর্ব ও দক্ষিণের অনেক বিস্তীর্ণ এলাকা তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ। তাই ‘ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড হুথিদের হাতে’ বলা ভুল; বরং **‘ইয়েমেনের প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ মানুষ হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করে’** বলা অধিকতর সঠিক।
৮. ‘নজদ’ সম্পর্কে হাদিসের ব্যাখ্যা এখানে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। সহিহ বুখারি ৭০৯৪-এ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ ﷺ শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেন। সাহাবিরা নজদের জন্যও দোয়া চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা হবে এবং সেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।
এই হাদিস সহিহ। কিন্তু ‘এখানে নজদ বলতে নিশ্চিতভাবে বর্তমান সৌদি আরবের নজদ অঞ্চল এবং এর মাধ্যমে পরবর্তী ওয়াহহাবি আন্দোলনকে বোঝানো হয়েছে’—এটি হাদিসের সরাসরি বক্তব্য নয়; এটি পরবর্তী ব্যাখ্যার একটি বিষয়। কারণ ‘নজদ’ শব্দটি আরবি ভাষায় একটি উচ্চভূমি বা উঁচু ভূখণ্ড বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং হাদিসের ভৌগোলিক ব্যাখ্যা নিয়ে ঐতিহাসিক আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সুতরাং হাদিসটি উল্লেখ করা যাবে, কিন্তু সেটিকে সরাসরি ১৮ শতকের ওয়াহহাবি আন্দোলনের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ঘোষণা করা গবেষণাগতভাবে সতর্ক অবস্থান নয়।
৯. ‘আল-সৌদদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর লানত রয়েছে’—এ দাবির প্রমাণ কী? এখানে অত্যন্ত স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সহিহ হাদিসে আল-সৌদ রাজবংশের নাম উল্লেখ করে তাদের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর লানতের কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। নজদ সম্পর্কিত সহিহ বুখারি হাদিস আছে; ইয়েমেনের প্রশংসা সম্পর্কিত সহিহ হাদিসও আছে। কিন্তু এগুলোকে একত্র করে ‘আল-সৌদ রাজবংশের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ লানত করেছেন’ —এ সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোটা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নবী ﷺ-এর নামে এমন বক্তব্য প্রচার করার আগে নির্ভরযোগ্য সনদ ও মূল আরবি বর্ণনা যাচাই করা জরুরি।
১০. ৭৩ দলে বিভক্তির হাদিস মুসলিম উম্মাহ ৭৩ দলে বিভক্ত হওয়ার বর্ণনা ইসলামী সাহিত্যে পরিচিত। তবে এর বিভিন্ন সনদ, বর্ণনার শব্দ এবং বিশেষ করে ‘৭২ দল জাহান্নামে, একটি নাজাতপ্রাপ্ত’—এই অতিরিক্ত অংশের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মিসরের দারুল ইফতা উল্লেখ করেছে যে এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে এবং কিছু মুহাদ্দিস বর্ণনার কিছু অংশকে দুর্বল বলেছেন। অন্যদিকে কিছু সুন্নি আলেম বিভিন্ন সনদ বিবেচনায় হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য বা সহিহ বলেছেন। অতএব ‘আজ মুসলমানরা ঠিক ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে গেছে’—এভাবে বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলোর ওপর সংখ্যাটি সরাসরি প্রয়োগ করা যথাযথ নয়।
১১. সৌদি রাজবংশের পতন কি আসন্ন? এটি ইতিহাসের তথ্য নয়; এটি একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক রাজনৈতিক দাবি। বর্তমানে কেউ যদি বলেন—‘সৌদি রাজবংশের পতন নিশ্চিত’, ‘অমুক সময়ে মক্কায় রক্তের স্রোত বইবে’, ‘মদিনা পরিত্যক্ত হবে’ অথবা ‘ফিলিস্তিন বিশ্বের রাজধানী হবে’—তাহলে এসব বক্তব্যের জন্য নির্ভরযোগ্য কুরআন-হাদিসের দলিল দেখানো প্রয়োজন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী ভবিষ্যতের বহু ঘটনা সম্পর্কে হাদিসে আলোচনা রয়েছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট আধুনিক রাষ্ট্রের পতন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উত্থান বা নির্দিষ্ট শহরে আসন্ন রক্তপাতকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ঘোষণা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মক্কা-মদিনা সম্পর্কে ভবিষ্যৎ রক্তপাতের কথা বলে আতঙ্ক ছড়ানো এবং সেটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
১২. তাহলে ইতিহাস আমাদের কী শিক্ষা দেয়? সৌদি আরবের ইতিহাসকে তিনটি পর্যায়ে বোঝা সহজ:
প্রথম পর্যায় — ১৭২৭–১৮১৮:
দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র এবং নজদে ধর্মীয়-রাজনৈতিক জোটের উত্থান।
দ্বিতীয় পর্যায় — ১৯০২–১৯২৭:
আবদুলআজিজ ইবন সৌদের রিয়াদ পুনর্দখল, বিভিন্ন অঞ্চল একীভূত করা এবং শেষ পর্যন্ত হিজাজ ও নজদকে এক রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে আনা।
তৃতীয় পর্যায় — ১৯৩২ থেকে বর্তমান:
২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ ‘Kingdom of Saudi Arabia’ নামে আধুনিক রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা।
অন্যদিকে ইয়েমেনের রয়েছে ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই বিশেষ ধর্মীয় ঐতিহ্য। ইয়েমেনবাসীদের ঈমান, কোমল হৃদয় ও প্রজ্ঞার প্রশংসা সহিহ হাদিসে এসেছে।
আরব উপদ্বীপের ইতিহাসকে শুধু ‘সৌদি বনাম ইয়েমেন’ বা ‘ওয়াহাবি বনাম প্রকৃত ইসলাম’—এই দুই ভাগে দেখলে ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাদ পড়ে যায়।
নিশ্চিতভাবে বলা যায়—
প্রথম সৌদি রাষ্ট্র ১৭২৭ সালে দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের ধর্মীয় আন্দোলন এবং আল-সৌদ পরিবারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জোট হয়েছিল।
সৌদি শক্তি ১৯২০-এর দশকে হিজাজ দখল করে মক্কা-মদিনার ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৩২ সালে ‘সৌদি আরব’ নামে আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইয়েমেন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশংসাসূচক ও বরকতের হাদিস সহিহ সূত্রে রয়েছে।
নজদ সম্পর্কিত ফিতনার হাদিসও সহিহ সূত্রে রয়েছে।
কিন্তু আল-সৌদ রাজবংশের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সরাসরি লানতের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
‘ব্রিটিশরা সরাসরি মক্কা-মদিনা দখল করিয়ে দিয়েছিল’—এ বক্তব্য অতিরঞ্জিত; ব্রিটিশ-সৌদি সম্পর্ক ছিল, কিন্তু হিজাজ দখলের ঘটনাটি আরও জটিল রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ।
সৌদি রাজবংশের ‘আসন্ন পতন’, মক্কায় ‘রক্তের স্রোত’, মদিনা পরিত্যক্ত হওয়া বা ফিলিস্তিনকে বিশ্বের রাজধানী হওয়ার মতো দাবিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উপস্থাপন করার মতো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।
ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আবেগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নামে কোনো কথা বলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো **সহিহ সূত্র, নির্ভরযোগ্য সনদ এবং ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রাখা**। কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য নবী ﷺ-এর বক্তব্যকে নিজের মতের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার এবং মিথ্যা ও অতিরঞ্জন থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন।
আরব উপদ্বীপের ইতিহাস শুধু একটি রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাস, মক্কা-মদিনার মর্যাদা, ইয়েমেন ও নজদের রাজনৈতিক-সামাজিক ইতিহাস, উসমানি সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ কূটনীতি এবং আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থা। সৌদি আরবের বর্তমান রাষ্ট্র কীভাবে গড়ে উঠল, নজদ ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাবের আন্দোলনের ভূমিকা কী ছিল, ব্রিটিশদের সঙ্গে আল-সৌদদের সম্পর্ক কতটা ছিল, ইয়েমেন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ কী বলেছেন এবং সৌদি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধর্মীয়ভাবে কী বলা যায়—এসব বিষয়…
আরব উপদ্বীপের ইতিহাস শুধু একটি রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাস, মক্কা-মদিনার মর্যাদা, ইয়েমেন ও নজদের রাজনৈতিক-সামাজিক ইতিহাস, উসমানি সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ কূটনীতি এবং আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থা।
সৌদি আরবের বর্তমান রাষ্ট্র কীভাবে গড়ে উঠল, নজদ ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাবের আন্দোলনের ভূমিকা কী ছিল, ব্রিটিশদের সঙ্গে আল-সৌদদের সম্পর্ক কতটা ছিল, ইয়েমেন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ কী বলেছেন এবং সৌদি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধর্মীয়ভাবে কী বলা যায়—এসব বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
১. ‘জাজিরাতুল আরব’ ও ‘সৌদি আরব’—দুটি একই ধরনের নাম নয়
‘জাজিরাতুল আরব’ বা আরব উপদ্বীপ একটি ঐতিহাসিক-ভৌগোলিক নাম। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব উপদ্বীপকে বোঝাতে বিভিন্ন আরবি পরিভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে ‘সৌদি আরব’ একটি আধুনিক রাষ্ট্রের নাম। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আবদুলআজিজ ইবন আবদুর রহমান আল-সৌদের অধীনে বিভিন্ন অঞ্চল একত্রিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া’ বা ‘সৌদি আরব রাজ্য’ নাম গ্রহণ করা হয়। সৌদি সরকারের নিজস্ব ইতিহাসেও এই তারিখটিই আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দেওয়া জাজিরাতুল আরব নাম পরিবর্তন করে আল-সৌদরা সৌদি আরব রেখেছে’—এ কথাটি ঐতিহাসিকভাবে সরলীকৃত। ‘জাজিরাতুল আরব’ একটি ভৌগোলিক পরিভাষা; ১৯৩২ সালে ‘সৌদি আরব’ নামে যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটি সেই বৃহত্তর উপদ্বীপের একটি রাষ্ট্র।
২. প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের সূচনা: ১৭২৭
সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম পর্যায় শুরু হয় দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে। সৌদি সরকারি ইতিহাস অনুযায়ী, ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ১৭২৭ সালে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং দিরিয়াহকে রাজধানী করেন। এই রাষ্ট্র ১৮১৮ সালে উসমানি-সমর্থিত মিশরীয় বাহিনীর অভিযানে পতিত হয়।
অর্থাৎ ১৭২৭ সালকে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠার সাল বলা ঠিক নয়। এটি ছিল **প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সাল**। আধুনিক ‘কিংডম অব সৌদি আরাবিয়া’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩২ সালে।
৩. মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ও আল-সৌদদের রাজনৈতিক জোট
১৮ শতকে নজদ অঞ্চলে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের উত্থান ঘটে। তাঁর আন্দোলন তাওহিদ, শিরক ও বিদআতের বিরোধিতা এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের অনুশীলনে প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেয়।
১৭৪৪ সালের দিকে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ও মুহাম্মদ বিন সৌদের মধ্যে রাজনৈতিক-ধর্মীয় জোট গড়ে ওঠে। এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তির জন্ম হয়। ব্রিটানিকা এই আন্দোলনকে ১৮ শতকের নজদে প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে ১৭৪৪ সালে এটি সৌদি পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হয়।
তবে ‘ওহাবি মতবাদ মানেই ইসলাম বিকৃত করা’—এটি একটি ধর্মতাত্ত্বিক মূল্যায়ন; ইতিহাসের নিরপেক্ষ বর্ণনা নয়। একইভাবে ‘ওহাবি মতবাদই একমাত্র প্রকৃত ইসলাম’—এ দাবিও সর্বসম্মত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতভেদ রয়েছে।
৪. প্রথম সৌদি রাষ্ট্র কীভাবে বিস্তৃত হয়েছিল?
আল-সৌদ ও ওয়াহহাবি আন্দোলনের রাজনৈতিক-ধর্মীয় জোটের পর নজদের বিস্তীর্ণ অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৮ শতকের শেষভাগে তাদের প্রভাব নজদের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং হিজাজের মক্কা ও মদিনাও তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৮১৮ সালে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের পতন ঘটে।
এরপর দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পর্যায় আসে। সেটিও শেষ পর্যন্ত পতিত হয়। পরবর্তীতে আবদুলআজিজ ইবন সৌদ ১৯০২ সালে রিয়াদ পুনর্দখলের মাধ্যমে তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯০২ সালের রিয়াদ পুনর্দখল আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল।
৫. মক্কা-মদিনা কীভাবে আল-সৌদদের নিয়ন্ত্রণে আসে? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংশোধন প্রয়োজন।
১৯২৪–২৫ সালে আবদুলআজিজ ইবন সৌদের বাহিনী হিজাজে অভিযান চালায়। মক্কা, মদিনা ও পরে জেদ্দা সৌদি নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯২৬ সালে আবদুলআজিজ হিজাজের রাজা হিসেবে স্বীকৃত হন এবং ১৯২৭ সালে নজদও তাঁর রাজ্যের অংশ হিসেবে রাজ্য মর্যাদা পায়। পরে ১৯৩২ সালে পুরো রাষ্ট্রের নাম হয় ‘Kingdom of Saudi Arabia’।
তবে ‘ব্রিটিশরা সরাসরি সৌদিদের দিয়ে মক্কা-মদিনা দখল করিয়েছিল’—এই বক্তব্যের পক্ষে সরল ও শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাস্তবতা আরও জটিল। ব্রিটিশদের সঙ্গে ইবন সৌদের চুক্তি ও সম্পর্ক ছিল। ১৯১৫ সালের দারিন চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন নজদে ইবন সৌদের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয় এবং অর্থ ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা করেছিল।
কিন্তু হিজাজ দখলের সময় ব্রিটিশরা শরিফ হুসাইনের পক্ষ নিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হুসাইন ব্রিটিশ সহায়তা চাইলেও ব্রিটিশরা ধর্মীয় বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
অতএব বলা যায়—**আল-সৌদদের সঙ্গে ব্রিটিশদের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল; কিন্তু ‘ব্রিটিশরা মক্কা-মদিনা দখল করিয়ে দিয়েছে’—এটি অতিরঞ্জিত সরলীকরণ।
৬. ইয়েমেনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বক্তব্য ইয়েমেন সম্পর্কে ইসলামী সূত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাদিস রয়েছে।
সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইয়েমেনবাসীদের কোমল হৃদয় ও ঈমানের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন এবং বলেছেন:
“ঈমান ইয়েমেনি এবং প্রজ্ঞা ইয়েমেনি।” সহিহ বুখারিতেও ইয়েমেনবাসীদের কোমল হৃদয় এবং ধর্মীয় বোঝাপড়া ও প্রজ্ঞার প্রশংসা এসেছে।
অন্য একটি সহিহ বুখারি হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন। এসব হাদিস থেকে ইয়েমেনের একটি বিশেষ ধর্মীয় মর্যাদা বোঝা যায়। কিন্তু এখান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে **আজকের ইয়েমেনের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামরিক সংগঠনই রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিশ্রুত সেই ‘প্রকৃত ইসলাম’-এর একমাত্র প্রতিনিধি।**
৭. ‘ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায়’—দাবিটির বাস্তবতা এই বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সত্যের কাছাকাছি হলেও ভাষাটি সংশোধন করা দরকার।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৭০–৮০ শতাংশ মানুষ হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বসবাস করে—কিন্তু হুথিরা দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ জনসংখ্যা ও ভূখণ্ডের হিসাব এক নয়। এর কারণ হলো ইয়েমেনের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে, আর পূর্ব ও দক্ষিণের অনেক বিস্তীর্ণ এলাকা তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ। তাই ‘ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড হুথিদের হাতে’ বলা ভুল; বরং **‘ইয়েমেনের প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ মানুষ হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করে’** বলা অধিকতর সঠিক।
৮. ‘নজদ’ সম্পর্কে হাদিসের ব্যাখ্যা এখানে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। সহিহ বুখারি ৭০৯৪-এ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ ﷺ শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেন। সাহাবিরা নজদের জন্যও দোয়া চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা হবে এবং সেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।
এই হাদিস সহিহ। কিন্তু ‘এখানে নজদ বলতে নিশ্চিতভাবে বর্তমান সৌদি আরবের নজদ অঞ্চল এবং এর মাধ্যমে পরবর্তী ওয়াহহাবি আন্দোলনকে বোঝানো হয়েছে’—এটি হাদিসের সরাসরি বক্তব্য নয়; এটি পরবর্তী ব্যাখ্যার একটি বিষয়। কারণ ‘নজদ’ শব্দটি আরবি ভাষায় একটি উচ্চভূমি বা উঁচু ভূখণ্ড বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং হাদিসের ভৌগোলিক ব্যাখ্যা নিয়ে ঐতিহাসিক আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সুতরাং হাদিসটি উল্লেখ করা যাবে, কিন্তু সেটিকে সরাসরি ১৮ শতকের ওয়াহহাবি আন্দোলনের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ঘোষণা করা গবেষণাগতভাবে সতর্ক অবস্থান নয়।
৯. ‘আল-সৌদদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর লানত রয়েছে’—এ দাবির প্রমাণ কী? এখানে অত্যন্ত স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সহিহ হাদিসে আল-সৌদ রাজবংশের নাম উল্লেখ করে তাদের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর লানতের কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। নজদ সম্পর্কিত সহিহ বুখারি হাদিস আছে; ইয়েমেনের প্রশংসা সম্পর্কিত সহিহ হাদিসও আছে। কিন্তু এগুলোকে একত্র করে ‘আল-সৌদ রাজবংশের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ লানত করেছেন’ —এ সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোটা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নবী ﷺ-এর নামে এমন বক্তব্য প্রচার করার আগে নির্ভরযোগ্য সনদ ও মূল আরবি বর্ণনা যাচাই করা জরুরি।
১০. ৭৩ দলে বিভক্তির হাদিস মুসলিম উম্মাহ ৭৩ দলে বিভক্ত হওয়ার বর্ণনা ইসলামী সাহিত্যে পরিচিত। তবে এর বিভিন্ন সনদ, বর্ণনার শব্দ এবং বিশেষ করে ‘৭২ দল জাহান্নামে, একটি নাজাতপ্রাপ্ত’—এই অতিরিক্ত অংশের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মিসরের দারুল ইফতা উল্লেখ করেছে যে এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে এবং কিছু মুহাদ্দিস বর্ণনার কিছু অংশকে দুর্বল বলেছেন। অন্যদিকে কিছু সুন্নি আলেম বিভিন্ন সনদ বিবেচনায় হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য বা সহিহ বলেছেন। অতএব ‘আজ মুসলমানরা ঠিক ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে গেছে’—এভাবে বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলোর ওপর সংখ্যাটি সরাসরি প্রয়োগ করা যথাযথ নয়।
১১. সৌদি রাজবংশের পতন কি আসন্ন? এটি ইতিহাসের তথ্য নয়; এটি একটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক রাজনৈতিক দাবি। বর্তমানে কেউ যদি বলেন—‘সৌদি রাজবংশের পতন নিশ্চিত’, ‘অমুক সময়ে মক্কায় রক্তের স্রোত বইবে’, ‘মদিনা পরিত্যক্ত হবে’ অথবা ‘ফিলিস্তিন বিশ্বের রাজধানী হবে’—তাহলে এসব বক্তব্যের জন্য নির্ভরযোগ্য কুরআন-হাদিসের দলিল দেখানো প্রয়োজন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী ভবিষ্যতের বহু ঘটনা সম্পর্কে হাদিসে আলোচনা রয়েছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট আধুনিক রাষ্ট্রের পতন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উত্থান বা নির্দিষ্ট শহরে আসন্ন রক্তপাতকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ঘোষণা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মক্কা-মদিনা সম্পর্কে ভবিষ্যৎ রক্তপাতের কথা বলে আতঙ্ক ছড়ানো এবং সেটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
১২. তাহলে ইতিহাস আমাদের কী শিক্ষা দেয়? সৌদি আরবের ইতিহাসকে তিনটি পর্যায়ে বোঝা সহজ:
প্রথম পর্যায় — ১৭২৭–১৮১৮:
দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র এবং নজদে ধর্মীয়-রাজনৈতিক জোটের উত্থান।
দ্বিতীয় পর্যায় — ১৯০২–১৯২৭:
আবদুলআজিজ ইবন সৌদের রিয়াদ পুনর্দখল, বিভিন্ন অঞ্চল একীভূত করা এবং শেষ পর্যন্ত হিজাজ ও নজদকে এক রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে আনা।
তৃতীয় পর্যায় — ১৯৩২ থেকে বর্তমান:
২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ ‘Kingdom of Saudi Arabia’ নামে আধুনিক রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা।
অন্যদিকে ইয়েমেনের রয়েছে ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই বিশেষ ধর্মীয় ঐতিহ্য। ইয়েমেনবাসীদের ঈমান, কোমল হৃদয় ও প্রজ্ঞার প্রশংসা সহিহ হাদিসে এসেছে।
আরব উপদ্বীপের ইতিহাসকে শুধু ‘সৌদি বনাম ইয়েমেন’ বা ‘ওয়াহাবি বনাম প্রকৃত ইসলাম’—এই দুই ভাগে দেখলে ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাদ পড়ে যায়।
নিশ্চিতভাবে বলা যায়—
প্রথম সৌদি রাষ্ট্র ১৭২৭ সালে দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের ধর্মীয় আন্দোলন এবং আল-সৌদ পরিবারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জোট হয়েছিল।
সৌদি শক্তি ১৯২০-এর দশকে হিজাজ দখল করে মক্কা-মদিনার ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৩২ সালে ‘সৌদি আরব’ নামে আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইয়েমেন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশংসাসূচক ও বরকতের হাদিস সহিহ সূত্রে রয়েছে।
নজদ সম্পর্কিত ফিতনার হাদিসও সহিহ সূত্রে রয়েছে।
কিন্তু আল-সৌদ রাজবংশের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সরাসরি লানতের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
‘ব্রিটিশরা সরাসরি মক্কা-মদিনা দখল করিয়ে দিয়েছিল’—এ বক্তব্য অতিরঞ্জিত; ব্রিটিশ-সৌদি সম্পর্ক ছিল, কিন্তু হিজাজ দখলের ঘটনাটি আরও জটিল রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ।
সৌদি রাজবংশের ‘আসন্ন পতন’, মক্কায় ‘রক্তের স্রোত’, মদিনা পরিত্যক্ত হওয়া বা ফিলিস্তিনকে বিশ্বের রাজধানী হওয়ার মতো দাবিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উপস্থাপন করার মতো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।
ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আবেগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নামে কোনো কথা বলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো **সহিহ সূত্র, নির্ভরযোগ্য সনদ এবং ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রাখা**। কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য নবী ﷺ-এর বক্তব্যকে নিজের মতের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার এবং মিথ্যা ও অতিরঞ্জন থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন।
ব্রিজের সব পাইল সোজা থাকে না। কিছু পাইল সোজা, আবার কিছু পাইল একটু কাত করে বসানো হয়। সোজা পাইল ব্রিজের ওপরের ভার নিচের শক্ত মাটিতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। আর তির্যক পাইল পাশ থেকে আসা চাপ, যেমন পানির স্রোত, বাতাস বা ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে। তবে কোন ধরনের পাইল ব্যবহার করা হবে, তা ঠিক করা হয় মাটির অবস্থা, সেতুর নকশা এবং কী ধরনের চাপ কাজ করবে এসব বিবেচনা করে। #পদ্মাসেতু…
ব্রিজের সব পাইল সোজা থাকে না। কিছু পাইল সোজা, আবার কিছু পাইল একটু কাত করে বসানো হয়।
সোজা পাইল ব্রিজের ওপরের ভার নিচের শক্ত মাটিতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। আর তির্যক পাইল পাশ থেকে আসা চাপ, যেমন পানির স্রোত, বাতাস বা ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে।
তবে কোন ধরনের পাইল ব্যবহার করা হবে, তা ঠিক করা হয় মাটির অবস্থা, সেতুর নকশা এবং কী ধরনের চাপ কাজ করবে এসব বিবেচনা করে।
#পদ্মাসেতু #PileFoundation #Construction #BridgeEngineering
#Engineering #CivilEngineering #BanglaFacts #EducationalContent #sciencebee #TheLogicLens
একজন গরীব অসহায় বাচ্চার জন্য স্কুলের বই খাতা প্রয়োজন কেউ কি সহযোগিতা করতে পারবেন?
দেশের তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা তৈরি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে এলো 'উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি— উদ্যোগ (UDYOG)'। দেশের প্রতিটি প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত অর্থায়ন ও সহায়তা প্রদানই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। আবেদন সংক্রান্ত তথ্য: * আবেদন গ্রহণ শুরু: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ * আবেদন দাখিলের শেষ সময়: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বি.দ্র: এছাড়াও অন্যান্য সকল জেলার…
দেশের তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা তৈরি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে এলো 'উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি— উদ্যোগ (UDYOG)'।
দেশের প্রতিটি প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত অর্থায়ন ও সহায়তা প্রদানই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
আবেদন সংক্রান্ত তথ্য:
* আবেদন গ্রহণ শুরু: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
* আবেদন দাখিলের শেষ সময়: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বি.দ্র: এছাড়াও অন্যান্য সকল জেলার অন্তর্ভুক্ত সকল উপজেলার উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
আবেদন ফর্ম ও বিস্তারিত তথ্য:
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd), এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরমটি সরাসরি ডাউনলোড করা যাবে।
আজই আপনার উদ্যোগের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুত হন এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সহযাত্রী হোন!
বিস্তারিত সার্কুলারের লিংক কমেন্ট বক্সে ও এখানে দেওয়া হলো-
@lhjihad · Journalist · Brahmanbaria
A quick introduction for the PothikTV community.
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
Professional experience, education and languages.
Goals, milestones and personal values.
Skills stored in this member's professional account.
Achievements and accolades stored for this member.
To: Liton Hossain Jihad
Private messages are stored by PothikTV. Do not assume end-to-end encryption unless a separate secure channel is configured.
Update, lead, inquiry, event, poll, visual or announcement
In Safari, tap Share, then choose Add to Home Screen.





