-
Liton Hossain Jihad posted an update
কসবায় প্রেমিকার বাড়িতে যুবকের আত্মহত্যা নয়: তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ পরিবারের-আদালাতে মামলা দায়ের।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে তানভীর হাসান নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রেমিকার বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর, বিষপান করানো এবং গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাউরখণ্ড গ্রামে।
এ বিষয়ে নিহত তানভীরের বাবা মোঃআক্কাস বাদিয় হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে ৮ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাউরখণ্ড গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার মেয়ে মোছা. ময়না আক্তার (২২)-এর সঙ্গে তানভীর হাসানের দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছু দিন আগে নিহত তানভীর জানতে পারে প্রেমিকা ময়না একাধিক ছেলের সাথে সর্ম্পক আছে। এ বিষয়ে সে ময়নার মা ছালমা বেগম ও অন্তর মিয়াকে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নিহতের ভাবি সাবিয়ার মাধ্যমে ফোন করে এবং ডাক্তার দেখাবে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে এনে গোর্কণ ঘাট এনে আটকে রাখে এবং ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিয়ে তাকে ফেরত নেই নিহতের বাবা আক্কাছ মিয়া। এ বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১১ মে সোমবার তানভীরকে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী সাবিয়া আক্তার তার ছোট বোন ময়নার বিয়ের বিষয়ে কথা বলার কথা বলে তার বাবার বাড়ি ডেকে নিয়ে যায়।। সেখানে প্রেমিকা ময়না আক্তার, তার মা সালমা আক্তার, চাচা খোকন মিয়া ও লোকমান মিয়া, চাচাতো ভাই অন্তরসহ কয়েকজন মিলে তানভীরকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক বিষপান করায়। একপর্যায়ে আসামীগন ব্ল্যাড দিয়ে তার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে তানভীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রথমদিকে ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে জানানো হলেও পরে মৃত্যুর আগে তানভীরের দেওয়া একটি ভিডিও বার্তা তাকে করা মারতে চেয়েছিল তাদের ব্যাপারে বলেন। ভিডিওতে তানভীর দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা বলেন,
“আমার ছেলে কাউকে কোনো ক্ষতি করেনি। প্রেমের সম্পর্ক ছিল, সেটা নিয়ে কথা বলতে ডেকে নিয়ে এমন নির্মম ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”তানভীরের বড় ভাই বলেন,
“আমার স্ত্রী বিয়ের বিষয়ে কথা হবে বলে তাকে সেখানে নিয়ে যায়। পরে আমরা খবর পাই সে হাসপাতালে। মৃত্যুর আগে ভাই ভিডিওতে সব বলে গেছে। যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।”ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“তানভীরকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার গলায় কাটা দাগ ছিল এবং সে কথা বলতে কষ্ট পাচ্ছিল।”এদিকে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তানভীর প্রেমঘটিত কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে কসবা থানার এক কর্মকর্তা জানান,
“ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
