কারফিউ জারি ও গণহত্যায় উসকানির অভিযোগে সালমান এফ রহমান-আনিসুল হকের বিচার শুরু
জুলাই–আগস্টে কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল সোমবার আদেশ দেন। এর আগে ৬ জানুয়ারি আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অব্যাহতির আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, তার মক্কেলরা নির্দোষ এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই। পাশাপাশি প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয় বলেও দাবি করা হয়।
আসামিপক্ষ বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে কথিত ভয়েস রেকর্ড যাচাইয়ের আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারের উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় সাধারণ জনগণের প্রাণহানির দায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমন করতে নীতিগত সিদ্ধান্তেও যুক্ত ছিলেন এই দুই শীর্ষ নেতা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৪ সালের এক ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ওদের শেষ করে দেও—এমন নির্দেশ দেওয়া হয়, যা আন্দোলন দমনের সরাসরি উসকানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে সালমান ও আনিসুলের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড শোনানো হয়। একই দিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ গ্রহণ করে এবং সেদিনই তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।
এই আদেশের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

Responses