শাহবাজপুরে ময়না হত্যা: ইমাম ও মুয়াজ্জিনের মুক্তির দাবিতে শানে সাহাবার স্মারকলিপি প্রদান
শাহবাজপুরের আলোচিত মায়মুনা আক্তার ময়না হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত হাবলী পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হামিদুর রহমান ও মুয়াজ্জিন সাইদুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গত ৫ জুলাই দুপুরে শাহবাজপুর এলাকার একটি শিশুকন্যা মায়মুনা নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। কিন্তু দীর্ঘ ২৪ দিনেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
২৭ জুলাই সকালে শানে সাহাবার প্রতিনিধি দল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ ও পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—সংগঠনের সভাপতি মাও. আতিকুল্লাহ বিন রফিক, সেক্রেটারি মাও. সৈয়দ আসাদুল করীম, সহ সভাপতি মাও. আব্দুর রউফ ও মাও. আমানুল্লাহ আমানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি কামাল হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি সালাহ উদ্দিন ইয়াকুবী, সহ সেক্রেটারি মাও. শামসুজ্জামান সোহাগসহ আরও অনেকে।
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়— ১) ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত; ২) গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না থাকলে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি; ৩) আটককালীন সময়ে তাদের পরিবার যেন মানবিক সহায়তা ও আইনগত সহায়তা পায় তা নিশ্চিত করা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বিচার প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।”
এদিকে, পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক জানান, “তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ তাদের কারাগারে হস্তান্তর করেছে। বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে।”
সংগঠনের জেলা সভাপতি মাও. আতিকুল্লাহ বলেন, “আমরা প্রথম দিন থেকেই ঘটনাটির বিচার চাইছি। যদি ইমাম ও মুয়াজ্জিন দোষী হয়, তাদের বিচার হোক, কিন্তু তারা যদি নির্দোষ হয়, তবে কেন এতদিন ধরে তাদের আটকে রাখা হয়েছে?”
তিনি প্রশাসনের কাছে জানতে চান, “কোন আইনে তাদের এখনো আটক রাখা হলো?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, এবং নির্দোষ হলে ধর্মীয় এই দায়িত্বশীলদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক।”
এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়

Responses