এনআইডি কার্ড ছাড়াই ভোট দেওয়ার সহজ প্রক্রিয়া
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশজুড়ে এখন ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভোটারদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ভোট দিতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্ট কার্ড সঙ্গে রাখা কি বাধ্যতামূলক?
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনআইডি বা স্মার্ট কার্ড সঙ্গে না থাকলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব। অনেকের ধারণা, এনআইডি ছাড়া ভোট দেওয়া যায় না, এটি সঠিক নয়। মূল বিষয় হলো, ভোটারের নাম সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় থাকতে হবে। পোলিং অফিসার ভোটার তালিকায় থাকা নাম ও ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলেই ব্যালট পেপার প্রদান করবেন।
তবে ভোট প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করার জন্য ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর আগে থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র ও ক্রমিক নম্বর জানা যাবে নিম্নোক্ত মাধ্যমে:
- মোবাইল অ্যাপ: গুগল প্লে স্টোর থেকে Smart Election Management BD অ্যাপ ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।
- এসএমএস পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID Number লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।
- হটলাইন: ১০৫ নম্বরে কল করে ৯ চাপলে সরাসরি অপারেটরের মাধ্যমে ভোটার তথ্য জানা যাবে।
ভোটদানের সময় সনাতন পদ্ধতিতে কাগজের ব্যালট এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। ভোট বাতিল এড়াতে কিছু নিয়ম মানা জরুরি:
১. ব্যালট পেপারের পেছনে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল আছে কি না যাচাই করে গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্টভাবে সিল দিতে হবে।
২. সিল দেওয়ার পর ব্যালটটি ভাঁজ করতে হবে যাতে সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না পড়ে।
৩. ব্যালট বাক্সে ভাঁজ করা ব্যালট পেপার নির্ধারিত স্বচ্ছ বাক্সে ফেলা হবে। ভোট দেওয়ার পর অযথা কেন্দ্রে অবস্থান না করে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সচেতনতা ও নিয়ম মেনে ভোটদানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী প্রত্যেক নাগরিককে নির্ধারিত নিয়ম মেনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Responses