নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশদের জন্য ২২ জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর ২২ ধরনের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তর এ নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের করণীয় ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রার্থী বা তাদের সমর্থকের সঙ্গে ছবি তোলা, উপহার গ্রহণ, রাজনৈতিক পছন্দ প্রকাশ, ভোটার বা নির্বাচন কর্মকর্তার কাজে অযথা হস্তক্ষেপ, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ, রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট বা মন্তব্য, দায়িত্বকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি, জনসমাগম স্থলে অযথা অবস্থান এবং অশোভন পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকা।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে কোনো ধরনের খাবার, উপঢৌকন বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। রাজনৈতিক মিছিলে অংশগ্রহণ, কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা বা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশও নিষিদ্ধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিনে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মোবাইল ফোন ব্যবহার একদমই নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক আচরণ বা অসদাচরণ, সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে পূর্বানুমান করা, স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি বা ভিডিও কারও কাছে পাঠানো, একত্রে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি—all এসব থেকে পুলিশ সদস্যদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, জনসমাগম স্থল বা খোলা জায়গায় খাবার খাওয়া, ফুটপাত বা টং দোকানে বসা, বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট, কলা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার গ্রহণ, অশোভন পোশাক পরিধান এবং অপেশাদার আচরণও নিষিদ্ধ।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনার লক্ষ্য হলো নির্বাচনী পরিবেশকে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা।

Responses