ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: কী করা যাবে, কী যাবে না আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিতে কড়াকড়ি, শৃঙ্খলিত প্রচারণায় জোর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা ও আচরণবিধিতে একাধিক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং অতিরিক্ত ব্যয় ও বিশৃঙ্খল প্রচারণা ঠেকাতে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের প্রচারণায় ড্রোন ও পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। […]

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা ও আচরণবিধিতে একাধিক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং অতিরিক্ত ব্যয় ও বিশৃঙ্খল প্রচারণা ঠেকাতে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের প্রচারণায় ড্রোন ও পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে বসে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটের প্রচারণায় কঠোর নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, গুজব সৃষ্টি কিংবা ভোটারদের প্রভাবিত করতে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আচরণবিধি লঙ্ঘনকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা করতে হবে এবং নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিটি ধাপে আচরণবিধি মানার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু শৃঙ্খলাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা দেড় লাখ পয়সা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্যও দেড় লাখ পয়সা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী মাঠে সমতা বজায় রাখতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
