চট্টগ্রামের বালুছড়ায় লিডার্স স্কুলে প্রথমার বই উৎসব, শিক্ষার্থীদের উল্লাস
চট্টগ্রামের বালুছড়ায় লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথমা প্রকাশনের উদ্যোগে আয়োজিত বই উৎসবে মেতেছে শিক্ষার্থীরা। বই কেনা ও পড়ার এ আনন্দ আয়োজনে শামিল হয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও।

Uncategorized ডেস্ক: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামের বালুছড়ায় অবস্থিত লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথমা প্রকাশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বই উৎসব। সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের টিফিনের বিরতিতে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে বইয়ের স্টল প্রাঙ্গণ। ক্যানটিনে না গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠে বই দেখার ও কেনার আনন্দে। কেউ রহস্যের বই, কেউ কিশোর উপন্যাস, আবার কেউ পছন্দের লেখকের গল্প বা কমিকসের বই কিনে বাড়ি ফিরছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইসা ভূতের গল্পের ভক্ত। প্রথমার এই বই মেলায় এসে একনজরেই সে কিনে নেয় প্রিয় লেখক রকিব হাসানের ‘হাতকাটা ভূত’ বইটি। কেনার আগে সহপাঠী বান্ধবীকে ডেকে এনে বইটি উল্টেপাল্টে দেখায় সে। মাইসা জানায়, রকিব হাসান তার প্রিয় গল্পকার। বইটির প্রেক্ষাপট এক পিয়ানো টিচার ও তার মিউজিক স্কুলকে ঘিরে, যেখানে শিখতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আর ফিরে আসে না। গল্পটির বাকি অংশ সে বাসায় গিয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়বে।
বই উৎসবের মলাট দেখে দ্রুত বই কেনা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সঠিক বইটি বেছে নেওয়ার তাগিদ দেখা গেছে ছোটদের মধ্যে। মেলা প্রাঙ্গণের একমাত্র স্টলটিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল বিজ্ঞান, গণিত, কিশোর উপন্যাস, গল্প ও রহস্যের নানা ধরনের বই। স্টলে আরও রাখা ছিল কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা। শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রশ্নই ছিল—কোন বইয়ের দাম কত? হাতে থাকা টাকা গুনে পছন্দের বই কেনার হিসাব মেলাতেও দেখা যায় অনেককে।
মেলার অন্য প্রান্তে গণিত ও বিজ্ঞানের বই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিল পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী সাদিদ ও আবির। নিজেদের জন্য কোন গণিত বইটি বেশি কাজে লাগবে এবং কঠিন প্রশ্ন সহজভাবে বুঝতে সাহায্য করবে—তা নিয়ে আলোচনায় মত্ত ছিল তারা। গল্প-উপন্যাসের প্রতি আগ্রহ থাকলেও বিজ্ঞান ও গণিতের প্রতি তাদের টান ছিল বেশি। এরই মধ্যে তারা দুজনে মিলে কিনে ফেলেছে বিজ্ঞানচিন্তার চলতি সংখ্যার দুটি কপি।
ছোটদের টিফিন শেষে যখন তারা ক্লাসে ফিরে যায়, তখন শুরু হয় মাধ্যমিক পর্যায়ের বড় শিক্ষার্থীদের টিফিনের বিরতি। এবার প্রাঙ্গণে নতুন করে শিক্ষার্থীদের ভিড় জমে। বড় শিক্ষার্থীদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে থ্রিলার, উপন্যাস ও জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের প্রতি। তারা স্টলে এসে প্রিয় লেখকের নতুন কোনো বই এসেছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল।
ছুটির পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন অভিভাবকেরাও। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পছন্দের বই বেছে দিতে তারা মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। সন্তানের বই পড়ার আগ্রহ দেখে অভিভাবকেরাও নিজেদের পছন্দের বইয়ের পাশাপাশি শিশুদের উপযোগী বই কেনেন। তেমনই এক অভিভাবক তানজিবা হাসান মেয়েকে নিতে এসে বিশ্বজিৎ চৌধুরীর ‘ফুটো’ বইটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। লেখকের আগের লেখা পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে মেয়ের বইয়ের সঙ্গে নিজের জন্য পছন্দের কয়েকটি বই কেনার পরিকল্পনা করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান ও রহস্যের বই পড়ার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতেই এই যৌথ আয়োজন করেছে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা মনে করেন, বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) আবু নাসের মো. তোহা জানান, বই মানুষকে ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝাতে শেখায়। এটি জ্ঞান অর্জনের মূল উৎস যা অতীতকে জানানো ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে শেখায়। অধ্যক্ষ আরও যোগ করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য জ্ঞান, নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে ভালো মানুষ তৈরি করা, যার মূল ভিত্তি বই। এ ধরনের বই উৎসব আয়োজনের জন্য তিনি প্রথমাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।
