ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেল ও সড়ক উন্নয়নে জোর দাবি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভায় বক্তাদের মতামত

পথিক টিভি: বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সংস্কৃতি, সাহিত্য ও আন্দোলনের ধারক এই জেলার মাটি ও মানুষ যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিতও। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা— যা উন্নয়নের মেরুদণ্ড— সেখানে রয়েছে নানামুখী সংকট ও সীমাবদ্ধতা।
সড়কপথে যানজট, খারাপ রাস্তা ও অনিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি রেলপথেও দুর্ভোগ কম নয়— পর্যাপ্ত ট্রেনের অভাব, ব্লাকাদের দৌরাত্ম্য ও স্টেশনে সেবার ঘাটতি যাত্রীদের হতাশ করছে নিয়মিত।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রেলসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও কবি সাউনাউল হক, এবং সঞ্চালনা করেন কবি হুমায়ুন কবির ভূইয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খান সাদত সভায় উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভৌগোলিকভাবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। রাজধানীর খুব কাছেই অবস্থিত এই অঞ্চলের উন্নয়ন মূলত নির্ভর করে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। একটি আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও সম্প্রসারিত রেলসেবা শুধু জেলার জনগণের সুবিধাই বৃদ্ধি করবে না, বরং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও বড় ভূমিকা রাখবে।”
তারা আরও বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনকে আঞ্চলিক রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এতে যাত্রীসেবা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি জেলার পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন সমাজকর্মী, শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিকরাও মতামত প্রদান করেন। তারা বলেন, “রেলসেবা কেবল পরিবহন নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি আবেগ। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো ঐতিহাসিক জেলার মানুষের এই দাবিটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।”

Responses