৪৫ দিনেও ফেরেনি ল্যান্ডো, দুবাইয়ে নিখোঁজ বিড়াল খুঁজতে এক লাখ টাকার পুরস্কার

দুবাইয়ে টানা ৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ একটি পোষা বিড়ালকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার মালিক। ‘ল্যান্ডো’ নামের ওই বিড়ালটি নিরাপদে ফিরে এলে তথ্যদাতাকে ৩ হাজার দিরহাম, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রিয় পোষ্যকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না মালিক পিটার হপকিন্স।
সাদা ও হালকা কমলা-বাদামি ছোপযুক্ত অ্যারাবিয়ান মাউ প্রজাতির ল্যান্ডো গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ। দুবাই ল্যান্ড রেসিডেন্স কমপ্লেক্স (ডিএলআরসি) এলাকার পার্ক প্লেস রেসিডেন্সের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সে হারিয়ে যায়। শীতকালীন ছুটিতে দেশের বাইরে যাওয়ার সময় ল্যান্ডোর দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন হপকিন্স তার সহকর্মী হেইলি রেইনোল্ডসের কাছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। রেইনোল্ডস ভুলবশত দ্বিতীয় তলার ব্যালকনির দরজা খোলা রেখে দেন। সকালে উঠে দেখেন, ল্যান্ডো আর নেই। বিষয়টি স্মরণ করে তিনি বলেন, “ও আমার তত্ত্বাবধানে ছিল বলে এখনও ভীষণ অপরাধবোধে ভুগছি। আমার নিজের পাঁচটি বিড়াল ব্যালকনিতে অভ্যস্ত, তাই দরজা বন্ধ করার কথা মাথায় আসেনি।
দ্বিতীয় তলা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে ল্যান্ডো আহত কিংবা মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবুও মালিক হপকিন্সের বিশ্বাস, কেউ হয়তো তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, “হয়তো যিনি ল্যান্ডোকে পেয়েছেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই কিংবা জানেন না যে ও নিখোঁজ।”
ল্যান্ডোর সন্ধানে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্টার টাঙানো হয়েছে। বিভিন্ন ভাষায় ছাপানো পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, ল্যান্ডো মাইক্রোচিপযুক্ত হলেও তার কোনো কলার নেই এবং সে খুবই ভীতু। পোস্টারে অনুরোধ জানানো হয়েছে—ল্যান্ডোকে দেখলে তাড়া না করে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।
নিখোঁজের পর থেকেই প্রতিদিন আশপাশের এলাকায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন রেইনোল্ডস। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্ট সংলগ্ন পার্ক এবং আকিলা স্কুলের আশপাশে নিয়মিত অনুসন্ধান চলছে। এই মাসের শুরুতে দুবাই ফিরে এসে অনুসন্ধানে যুক্ত হয়েছেন ল্যান্ডোর মালিক হপকিন্সও।
নিজের একমাত্র পোষা প্রাণীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। “ও ছাড়া বাড়িটা ভীষণ ফাঁকা লাগে। অনেক সময় মনে হয় চোখের কোণে ওকে দেখছি, —বললেন হপকিন্স। ল্যান্ডোর সন্ধান পেতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই দুই শিক্ষক। এখন পুরো এলাকা জুড়েই একটাই প্রত্যাশা—কবে ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া ল্যান্ডো।

Responses