Education ডেস্ক: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ন
নিজের অটিস্টিক সন্তানদের সঠিক মূল্যায়ন ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের পর নিউরোডাইভারজেন্ট শিশুদের সহায়তায় যুক্তরাজ্যের কেন্টে একটি বিশেষায়িত সেন্টার চালু করেছেন জনপ্রিয় র্যাপার গিগস। ৪৫ বছর বয়সী লন্ডনের এই সংগীতশিল্পী ওএমজি ফাউন্ডেশন নামে একটি শিক্ষাবিষয়ক দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কেন্টের গ্রেভসেন্ডে ‘সেন্ট জেমস হাউস’ নামের এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা ও প্রতিবন্ধকতা (সেন্ড) থাকা শিক্ষার্থী এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন এমন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সেবা দেবে। সম্প্রতি গিগস এবং তার বাগদত্তা ভ্যালেরির ঘরে কন্যাশিশু নোয়ার জন্ম হয়। ওই নিউ জার্সি হাসপাতালের প্রসূতি কক্ষ থেকেই তিনি এই প্রজেক্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরাসরি লাইভস্ট্রিমে যুক্ত হন। এর পরপরই তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে জে-জি-র সঙ্গে পারফর্ম করার পাশাপাশি নতুন এই সেন্টারের কার্যক্রম দেখতে যান।
গিগসের চার সন্তানের মধ্যে বড় তিন সন্তানই অটিস্টিক। তার সাত বছর বয়সী ছেলে ইসরায়েলের সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এই জটিলতা ও অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। বড় ছেলে র্যাপার এমএল তরুণ বয়সে অটিজম চিহ্নিত হওয়ার পর, গিগস নিজেও নিজের অটিজম সম্পর্কে জানতে পারেন। পরবর্তীতে সন্তানদের এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড কেয়ার প্ল্যান (ইএইচসিপি) ও অন্যান্য মূল্যায়নের জন্য তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়।
প্রচলিত সেন্ড ব্যবস্থার নানা ত্রুটি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পর গিগসের ছেলে ইএইচসিপি সুবিধা পায়। তবে বেশিরভাগ সাধারণ অভিভাবকের পক্ষে এই জটিল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমনকি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে এই সেন্ড ব্যবস্থাটি একপ্রকার ভেঙে পড়েছে এবং এতে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।
ওএমজি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী জামাল মিয়া এবং গিগস দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। গ্রেভসেন্ড এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সুবিধার্থে তারা এই উদ্যোগ নেন। গিগসের বিশেষ অনুরোধে এই স্কুলের সঙ্গে একটি অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার যুক্ত করা হয়েছে, যাতে অভিভাবকরা সহজে সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ইএইচসিপি মূল্যায়ন পেতে পারেন।
সেন্ট জেমস হাউসের এই মূল্যায়ন সেন্টারটি চলতি মাসেই চালু হয়েছে। এখানে শিক্ষাবিষয়ক মনস্তত্ত্ববিদ, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং স্পিচ-অ্যান্ড-ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞরা নিয়োজিত থাকবেন। অন্যদিকে মূল স্কুলটি আগামী জানুয়ারিতে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সেন্টারের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিউরোডাইভারজেন্ট শিক্ষার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেস আকিন্ডে।
সেন্টারটির কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় ৯ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড তহবিলের সিংহভাগই ইতোমধ্যেই সংগৃহীত হয়েছে। এর পেছনে ড্যামিয়েন হার্স্ট, স্টিফেন ফ্রাই, এড শিরান, রবি উইলিয়ামস এবং জাদুকর ডায়নামোর মতো তারকারা দাতব্য নিলামে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। গিগসের আশা, এই স্কুলের মাধ্যমে অটিস্টিক ও এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুরা নিজেদের মেধা ও সুপ্ত প্রতিভা বুঝতে পারবে।

