অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী: এক মানবিক প্রকৌশলী ও শিক্ষকের স্মৃতিকথা

Editorial Transparency & Correction Notice
This report is published through the PothikTV editorial workflow. Sources, evidence, revisions and material corrections are documented where available.
No material correction has been recorded for this story.অনুসন্ধান ও বিশেষ প্রতিবেদন ডেস্ক: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
প্রখ্যাত প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর ক্লাসে তাঁর পড়ানোর চমৎকার কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনে গভীর মুগ্ধতা তৈরি হতো। বুয়েটে পড়ার সময় আনিসুল হক তাঁর কাছে স্ট্রাকচার ও ট্রাস বিষয় শিখতেন। জামিলুর রেজা চৌধুরী ক্লাসের প্রথম ১০ মিনিটে আগের ক্লাসের বিষয় পুনর্বিবেচনা করতেন, পরের ২০ মিনিট নতুন বিষয় পড়াতেন এবং শেষ ১০ মিনিটে পুনরায় সারসংক্ষেপ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতেন। তিনি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতেন এবং ক্লাসে যা পড়াতেন, পরীক্ষার প্রশ্নে সেটাই দিতেন। ফলে জটিল প্রশ্নের ভয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষা দিতে পারত।
বুয়েটে অধ্যয়নকালে আনিসুল হক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোর চেয়ে সাহিত্য, ছবি আঁকা এবং সমাজবিজ্ঞান-অর্থনীতিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে তিনি কবিতা লিখতেন এবং জটিল অঙ্কের সূত্র মুখস্থ করার চেয়ে তা কীভাবে তৈরি করতে হয়, সেই চেষ্টা করতেন। এমন পরিস্থিতিতেও জামিলুর রেজা চৌধুরীর নিখুঁত শিক্ষাদান পদ্ধতির কারণে তিনি স্যারের পরীক্ষায় ৪০-এর মধ্যে ৩৯ নম্বর পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রজীবন শেষেও আনিসুল হকের কাজের খোঁজখবর রাখতেন এই প্রিয় শিক্ষক।
পরবর্তী জীবনে আনিসুল হক যখন বুয়েটের কারিগরি পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্বে যুক্ত হন, তখন স্যারকে সভাপতি করে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। পাস করার পরও সেই বোর্ডের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতেন আনিসুল হক। জামিলুর রেজা চৌধুরী সব সময় বলতেন যে প্রকৌশলীরা সব ধরণের কাজ করতে পারে। তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের শিল্প, সাহিত্য, গান, সিনেমা এবং মানুষের জীবনকে জানার ওপর জোর দিতেন। ফজলুর রহমান খানের উদাহরণ টেনে তিনি বলতেন, শুধু প্রযুক্তি নিয়ে থাকলেই চলবে না, মানুষকে জানতে হবে। তিনি আনিসুল হককে জীবন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সিনেমা দেখার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতি জামিলুর রেজা চৌধুরীর ভালোবাসা ও তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। তিনি পৃথিবীর কোন ছাত্র কোথায় কী করছে, তা মুখস্থ রাখতেন। নিজের মেধা ও মন সজীব রাখতে সুডোকু মিলাতেন এবং গাড়িতে যাওয়ার সময় সামনের নম্বর প্লেটের সংখ্যা নিয়ে খেলা করতেন। কিশোর আলোর কিআনন্দ অনুষ্ঠানসহ ছোটদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি সবসময় সানন্দে উপস্থিত হতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের ভবিষ্যতের বড় কাজগুলো শেষ পর্যন্ত আজকের ছোটদের হাতেই ন্যস্ত হবে।
জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন একাধারে যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু, ঢাকার নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ আন্দোলন ও গণিত অলিম্পিয়াডের মতো বড় বড় জাতীয় উদ্যোগের সাথে যুক্ত ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পরবর্তীতে আমৃত্যু ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য ছিলেন। বিদেশে বড় কাজের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন।
২০২০ সালের করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের সময় মৃত্যুর ১০ দিন আগে প্রথম আলোর জন্য ফোনের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিয়েছিলেন—ঘরে থাকা, মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল ধানমন্ডির বাসভবনে ঘুমের মধ্যে এই মহান ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছিলেন যে, আলাদিনের চেরাগ পেলে তিনি সিলেটের টিলা ও ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্রের চরে তাঁর শৈশবে ফিরে যেতে চাইবেন।
Corroborating Sources & Evidence
Corrections & Audit Trail
Material changes and newsroom transparency notes associated with this report.
SEO ও Schema.org
- Schema type
- NewsArticle
- Canonical URL
- https://pothiktv.com/%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%95-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7/
- Slug
- %e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%95-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7
