অ্যালগরিদমহীন ইনস্টাগ্রামে রিচ কমবে এবং ব্র্যান্ডের কনটেন্টে ছেয়ে যাবে: অ্যাডাম মোসেরি
অ্যালগরিদমমুক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত ব্র্যান্ড সম্পর্কিত কনটেন্টের চাপে পড়তে পারেন এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় কমিয়ে দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম মোসেরি।

প্রযুক্তি ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
অ্যালগরিদমমুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্বে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও খারাপ হবে এবং তারা অতিরিক্ত ব্র্যান্ড সম্পর্কিত কনটেন্টের চাপে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম মোসেরি। তাঁর মতে, অ্যালগরিদম না থাকলে ব্যবহারকারীরা ইনস্টাগ্রামে কম সময় ব্যয় করবেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি নতুন প্রস্তাবনার পর এমন মন্তব্য আসল। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ গত মঙ্গলবার ঘোষণা করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যালগরিদম-সুপারিশকৃত ফিড অথবা কেবল অনুসরণ করা পেজগুলোর কালানুক্রমিক (রিভার্স ক্রোনোলজিক্যাল) ফিড বেছে নেওয়ার সুযোগ বা প্রম্পট দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ‘অ্যালগো কনফেশনস’ সিরিজ চালু উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কথা বলেন অ্যাডাম মোসেরি। তিনি অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানান যে ইনস্টাগ্রামে একাধিক অ্যালগরিদম সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে বন্ধুর স্টোরি আগে দেখানো, মেসেজ সাজেশনে কাদের নাম আগে আসবে তা নির্ধারণ করা এবং ফিডের কনটেন্ট বেছে নেওয়ার মতো কাজগুলো আলাদা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই প্রথম অ্যালগো কনফেশনস সিরিজ চালু করা হলো। এই সিরিজে তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সাররা তুলে ধরেন কীভাবে ইনস্টাগ্রামের কনটেন্ট নির্ধারিত হয় এবং সেটিংসে ট্যাগ যোগ বা সরানোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
মোসেরি উল্লেখ করেন, কেবল একটি ‘খুবই সোচ্চার সংখ্যালঘু’ অংশ আবার আগের মতো কালানুক্রমিক ফিডে ফিরে যেতে চায়। তবে এমন ব্যবস্থা চালু হলে মানুষ কেবল বেশি বেশি পোস্ট করতে উৎসাহিত হবে। তাঁর মতে, যারা সবচেয়ে বেশি পোস্ট করার সামর্থ্য রাখে তারা বেশি নাগাল বা রিচ পাবে। কিন্তু সাধারণ বন্ধুদের তুলনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বেশি পোস্ট করেন এবং তাদের চেয়েও অনেক বেশি পোস্ট করে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান।
ফলে অ্যালগরিদম না থাকলে পুরো প্ল্যাটফর্ম ব্র্যান্ডগুলোর কনটেন্টে ছেয়ে যাবে এবং সাধারণ বন্ধু বা ক্রিয়েটরদের পোস্টগুলো ঢাকা পড়ে যাবে বলে সতর্ক করেন মোসেরি। এর ফলে প্ল্যাটফর্মের প্রতি ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ও সন্তুষ্টি কমে যাবে এবং সামগ্রিক রিচ বা নাগাল হ্রাস পাবে।
তিনি স্বীকার করেন যে ইনস্টাগ্রামের র্যাংকিং অ্যালগরিদম অনেক সময় একটি ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর মতো মনে হতে পারে, তবে এটি পারফেক্ট নয়। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সুপারিশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কিছু নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার এআই মডেলগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অ্যাপের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারবেন কেন তারা নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট দেখছেন।
ব্রিফিংয়ে ইনস্টাগ্রামকে চিকিৎসাশাস্ত্রীয় সংজ্ঞানুযায়ী ‘আসক্তিকর’ বলতে অসম্মতি জানান মোসেরি। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আসক্তির সঙ্গে শারীরিক উপসর্গ বা উইথড্রয়াল সিম্পটম যুক্ত থাকে, যা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে ঘটে না। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এটি একটি বিতর্কিত বিষয়।
যদিও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে অ্যালগরিদমের বারবার ব্যবহার ডোপামিন পথ পরিবর্তন করে, যা মাদকের আসক্তির মতো নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি মেটার পণ্যগুলোর আসক্তিকর প্রকৃতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি আলোচিত মামলা নিষ্পত্তি করতে মেটা ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে সম্মত হয়, যদিও তারা কোনো ভুল স্বীকার করেনি।
সূত্র: The Guardian – Technology
