শিক্ষা ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানামুখী শিক্ষাগত মন্দা ও নিম্নগতির বিপরীতে গিয়ে ইংল্যান্ডের বিদ্যালয়গুলো এক অসাধারণ সাফল্য উপহার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি বা ‘পিISA’ (Pisa)-র সাম্প্রতিক ফলাফলে বিশ্বজুড়ে ৯০টি দেশের সঙ্গে তুলনায় ১৫ বছর বয়সী ইংলিশ শিক্ষার্থীদের পাঠপ্রবণতা, গণিত ও বিজ্ঞানের মেধা সন্তোষজনকভাবে বজায় থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) ২০২২ সালে তাদের শেষ মূল্যায়ন প্রকাশ করার পর থেকে এবারও সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (স্টেম) শিক্ষার ওপর সরকারের বাড়তি গুরুত্ব আরোপের সুফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
যদিও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের চারটি অঞ্চলই ভালো ফলাফল করেছে, তবে পাঠপ্রবণতা ও গণিতে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড ইংল্যান্ডের সমকক্ষ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। তা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য জুড়ে বিজ্ঞান শিক্ষার শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অবশ্য এই ইতিবাচক ফলাফলের মানে এই নয় যে শিক্ষা ব্যবস্থার সব সমস্যা এক রাতেই মিটে গেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, ‘স্টেম’ শিক্ষার ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে শিল্প ও কলাভিত্তিক বা আর্টস বিষয়গুলোকে অবহেলা করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের প্রবর্তিত ‘ইব্যাক’ (Ebacc) কাঠামোর আওতায় আর্টস বিষয়গুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা ভুল পদক্ষেপ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রফেসর বেকি ফ্র্যান্সিসের সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমান লেবার সরকার এই ব্যাক কাঠামো বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের জিসিএসই (GCSE) পরীক্ষা পুনরায় দেওয়ার নীতি শিক্ষার্থীদের ওপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তা দূর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল এই কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং নতুন জিসিএসই সংস্করণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
এছাড়া বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদাসম্পন্ন (SEN) শিক্ষার্থীদের অধিকার সম্পর্কিত আইন ও নীতিগত সংস্কার এখন সরকারের অন্যতম প্রধান মনোযোগের বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সহায়তার আবেদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব ও চাপ তৈরি করছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে ফলাফলের বৈষম্য কমানোও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক স্তরে সামগ্রিক ফলাফলের পতনের পেছনে প্রযুক্তি ও স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ওইসিডির শিক্ষা বিষয়ক পরিচালক আন্দ্রেয়াস শ্লাইখার। স্কুলে অত্যাধিক স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে ইংল্যান্ডের কিশোর-কিশোরীরাও স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও কীভাবে তারা ভালো ফল ধরে রেখেছে, তা গবেষণার দাবি রাখে।
প্রফেসর বেকি ফ্র্যান্সিস উল্লেখ করেছেন যে, এই ফল প্রমাণ করে انگل্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু জায়গায় সঠিক পথে রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মভার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন সরকার তড়িঘড়ি করে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনবে না বলেই আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সূত্র: The Guardian – Education

