POTHIKTV

ইংল্যান্ড সফরে চরম ব্যর্থতার মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট: বিশৃঙ্খলা ও পিসিবি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং পিসিবির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া লেখক ত্বহা হাশিম। শেষ টেস্টের আগে সাত খেলোয়াড় ও দুই কোচকে বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্কের সূচক।

ইংল্যান্ড সফরে চরম ব্যর্থতার মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট: বিশৃঙ্খলা ও পিসিবি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা

খেলাধুলা ডেস্ক: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজের পারফরম্যান্স এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। সফর চলাকালীন শেষ টেস্ট বাকি থাকতেই পিসিবির পক্ষ থেকে সাতজন খেলোয়াড় ও দুজন কোচকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গার্ডিয়ানের নিবন্ধে ক্রীড়া লেখক ত্বহা হাশিম উল্লেখ করেছেন, পিসিবির এই অদূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে মূলত খেলোয়াড়দের ব্যর্থ হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স একেবারেই হতাশাজনক। ৪০-এর ওপর গড় থাকা ব্যাটাররা এখন পর্যন্ত ২০০ রানের গণ্ডি ছুঁতে পারেননি। দলের টেল-এন্ডাররাও ব্যাটে কোনো সহায়তা করতে পারছেন না। বোলিং বিভাগে সাবেক গতি ও ধার না থাকা এবং অনিয়মিত দল নির্বাচনের কারণে সফরকারী দলটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ না জেতা পাকিস্তানের জন্য এই ব্যর্থতা এক নতুন হতাশাজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে।

বোর্ডের হঠাৎ পরিবর্তন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তালিকা বেশ দীর্ঘ। গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন ফরম্যাট ও অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগ মিলিয়ে ১০ জন প্রধান কোচ পরিবর্তন করেছে পাকিস্তান। মাত্র গত এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া সরফরাজ আহমেদকে ছয়টি টেস্টের পর কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হেডিংলে টেস্টে এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি বোলার আলী ওসমানকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। লর্ডসে মোহাম্মদ আব্বাসের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও বাতিলের খাতায় ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি লিডস টেস্টের অধিনায়ক সালমান আলী আগাকে প্রথমে লন্ডন টেস্ট থেকে ড্রপ করা হয় এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি দলের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বাদ পড়া খেলোয়াড়দের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যে সাতজনকে নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনেরই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের অভিজ্ঞতা নেই। এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ও পুরুষ দলের নির্বাচক আকিব জাভেদ জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন তাদের নিয়ে হাসছে এবং দল প্রতিদ্বন্দিতা করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন কাউকে না কাউকে পদক্ষেপ নিতেই হতো। তবে এই ধরনের পাইকারি ছাঁটাইয়ের ফলে ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্রিকেট ও রাজনীতি পৃথক রাখার কথা বলা হলেও পিসিবির বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মেয়াদে আটটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার আগের পরাজয়ের উদাহরণ দিয়ে নকভি পিসিবির পারফরম্যান্সের পক্ষে সাফাই দিলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে রাজকীয় লড়াইয়ের পরিবর্তে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের শৈত্যই বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

অতীতের ইতিহাস ও তারকা খেলোয়াড়দের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণ করে সমর্থকদের মন সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করলেও পাকিস্তান ক্রিকেটের সার্বিক প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এই খেলাটিকে দিন দিন আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্রিকেটারদের সামর্থ্যের অভাবের চেয়ে পিসিবির নীতি ও ভুল সিদ্ধান্তই দলটিকে বারবার ব্যর্থতার মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

সূত্র: The Guardian – Sport

0
0 comments·0 shares