বিনোদন ডেস্ক: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
প্রথম শতকে রোমান শাসনের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহ এবং জেরুজালেমের ঘটনাবলি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘লেজেন্ড অব ডিস্ট্রাকশন’। দীর্ঘ আট বছরের নির্মাণযজ্ঞ শেষে সিনেমাটি ২০২১ সালে সম্পূর্ণ হলেও এতদিন তা অনেকটাই আড়ালে ছিল। অবশেষে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিনেমাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে।
পরিচালক গিলি দার এবং শুলি র্যান্ড যৌথভাবে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন। ঐতিহাসিক ফ্লেভিয়াস জোসেফাসের সংকলিত ‘দ্য জুইশ ওয়ার’ এবং তালমুদের ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এর কাহিনি গড়ে উঠেছে। খ্রিস্টের জন্মের ৬৬ বছর পর তৎকালীন জুদিয়া ও জেরুজালেমে রোমান শাসক এবং স্থানীয় ইহুদি অভিজাতদের অতিরিক্ত কর আদায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা-ই এতে তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমাটিতে কোনো প্রথাগত অ্যানিমেশন বা চলচ্ছবিলের ব্যবহার করা হয়নি। চিত্রশিল্পী ডেভিড পোলোনস্কি এবং মাইকেল ফাউস্টের আঁকা ডিজিটাল স্থিরচিত্রের মাধ্যমে পুরো গল্পটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসব ছবি কখনো তৈলচিত্র আবার কখনো প্যাসটেল আর্টের মতো মনে হয়, যা স্থির হওয়া সত্ত্বেও বেশ গতিশীল অনুভূতি তৈরি করে। শেষাংশে এসে বার্তা পৌঁছে দিতে সামান্য অ্যানিমেশনের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে।
সিনেমাটির ইংরেজি সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছেন হলিউডের বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা অভিনেতা। মূল চরিত্র ও কথক ‘বেন বাতিচ’ চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন অস্কার আইজাক। সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে শুরু করলেও মায়ের আকুলতা এবং রাব্বি চাচা ইউহানান বেন জাকাইয়ের সহনশীলতার আবেদন উপেক্ষা করে একপর্যায়ে বাতিচ বিদ্রোহের অন্যতম নেতা হয়ে ওঠেন। সিভিলিয়ার রানি বেরেনিস চরিত্রে এভানজেলিন লিলি এবং রাব্বি ইউহানান বেন জাকাই চরিত্রে ইলিয়ট গুল্ড কণ্ঠ দিয়েছেন।
রোমানদের বিরুদ্ধে প্রথম দিকের রাজপথের লড়াইয়ে বিদ্রোহীরা জয় পেলেও পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সাইমন বার গিওরার (কণ্ঠ দিয়েছেন বিলি জেন) নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য একটি বিপ্লবী দলের সঙ্গে বেন বাতিচ ও তার অনুসারীদের বিরোধ তৈরি হয়। অভ্যন্তরীণ এই বিভাজনের চূড়ান্ত পরিণতিতে জেরুজালেমের বিখ্যাত ‘সেকেন্ড টেম্পল’ বা দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভস্মীভূত হয়।
কাহিনির শেষ পরিণতিতে দেখা যায় জেরুজালেমে মারাত্মক খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছে। বেন বাতিচ ও তার পরিবার চরম অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে রোমে শাসক সম্রাট নিরো নিহত হন এবং সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলেও রোমানরা আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নেয়।
চলচ্চিত্রটিতে সে সময়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে সুনির্দিষ্টভাবে বজায় রাখা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে খ্রিস্টধর্মের প্রচার প্রাথমিক পর্যায়ে অত্যন্ত সীমিত থাকায় এতে তার কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। পরিচালক গিলি দারের এই ভিন্নধর্মী ও দুঃসাহসী ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে মোশন পিকচারের ক্ষেত্রে এক অনন্য উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

